কথিত শিশু বক্তা রফিকুলের পর হেফাজতের মামুনুল গ্রেফতার

222

এবিসি ডেস্ক:রাজধানীর মোহাম্মদপুর মাদ্রাসা থেকে হেফাজত নেতা মামুনুল হককে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার (৭ এপ্রিল) রাত  পৌনে ১২ টার দিকে ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে-এমন খবর ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।
যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক স্কুল বিষয়ক সম্পাদক ও শিল্পকলা একাডেমির সদস্য সরদার ফরিদ আহমেদ তার ফেসবুক আইডিতে মামুনুল হক ডিবি পুলিশের হাতে আটক হয়েছে-এমন ইঙ্গিত দিয়ে একটি পোস্ট করেন।
এরআগে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তিলোত্তমা সিকদার তার ফেসবুক টাইমলাইনে মামুনুল হককে গ্রেফতারের বিষয়টি জানিয়েছেন। সূত্রঃ সময় টিভি

গত দুই দিনে ঢাকায় ও নারায়ণগঞ্জে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হওয়ার পর তার ওপর নজরদারি শুরু করে পুলিশ ও র‌্যাবসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা। সূত্রমতে, সাদা পোশাকে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তার গতিবিধি নজরদারি করে আসছেন। অন্যদিকে আ’লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা ও মন্ত্রী গত দুই দিনে হেফাজতের তাণ্ডবের ব্যাপারে হুশিয়ারী দেন। আরও খবর>>অবশেষে হেফাজত নেতা মামুনুল গ্রেফতার

এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার সৈয়দ নুরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মামুনুল হককে গ্রেপ্তারে পদক্ষেপ নেয়া হবে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। কম সময়ের মধ্যে আমরা গ্রেপ্তার অভিযান চালাব।

অন্যদিকে হেফাজত সংশ্রিষ্ট একাধিক সূত্রমতে, গত শনিবার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ এলাকায় রিসোর্ট কাণ্ডের পর মামুনুল হক তার মোহাম্মদপুরের বাসায় ফেরেননি। তার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে মোহাম্মদপুরের কাদেরাবাদ হাউজিং ১ নম্বর সড়কের বাসা ছেড়ে গেছেন। কোথায় গেছেন তাও নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারেননি।

মামুনুল হক শিক্ষকতা করেন মোহাম্মদপুরের জামিয়া রহমানিয়া মাদ্রাসায়। রিসোর্ট কাণ্ডের পর গত সোমবার ওই মাদ্রাসায় হেফাজত নেতারা জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠকে মামুনুল হক উপস্থিত ছিলেন ।  বৈঠকের পর তার দেখা পাওয়া যায়নি।

হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ফজলুল করিম কাসেমী জানান, ‘তার (মামুনুল) সঙ্গে সর্বশেষ দেখা হয়েছে গত সোমবার। উনি বৈঠকে ছিলেন। এখন কোথায় আছেন জানি না।’

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র বলছে, শনিবার রাতে সোনারগাঁ থেকে ফিরে মামুনুল হক পল্টনে বোনের বাসায় যান। সেখান থেকে যান মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া মাদ্রাসায়। সেখান থেকে বসিলায়। গত সোমবার তিনি জামিয়া রাহমানিয়ায় এসেছিলেন। তাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। নির্দেশনা পেলেই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।

বায়তুল মোকাররমে তাণ্ডবের ঘটনায় গত ৫ এপ্রিল রাতে পল্টন থানায় একটি মামলা হয়। মামুনুল হককে প্রধান আসামি করে ১৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনসহ কয়েকটি ধারায় আরিফ-উজ-জামান নামে এক ব্যবসায়ী মামলা করেছেন। মামলার এজাহারে এক নম্বর ও হুকুমের আসামি করা হয়েছে মামুনুল হককে।

এদিকে ৬ এপ্রিল রাতে সোনারগাঁ থানায় মামুনুল হকসহ ৮৩ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে। এছাড়াও তাকে প্রধান আসামি করে আরও পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরও ২৫০-৩০০ জনকে। মামলায় মামুনুল হককে প্রধান আসামি করা হয়েছে। সোনারগাঁয়ে ভাঙচুর, সহিংসতা ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে ওই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইয়াউর রহমান বাদি হয়েছে মামলাটি করেছেন।

দেশব্যাপী তাণ্ডবের পর হেফাজতে ইসলাম কঠোর হাতে দমনে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সরকারের মন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।

হেফাজত নেতা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সোমবার সচিবালয়ে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি বলেন, তদন্তে যারাই চিহ্নিত হবে, তাদের কেউ ছাড় পাবে না।

হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডব সহ্যের মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে বলে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বুধবার সকালে তার সরকারি বাসভবনে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘হেফাজতে ইসলাম নামে একটি উগ্র সাম্প্রদায়িক অপশক্তি দেশের বিদ্যমান স্বস্তি এবং শান্তি বিনষ্টে দেশের বিভিন্ন স্থানে যে অব্যাহত তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে, তা সহনশীলতার সকল মাত্রা অতিক্রম করেছে।’ তিনি দলীয় নেতা কর্মীদের নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের তালিকা করারও নির্দেশ দেন।

এদিকে বুধবার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে হেফাজতের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিদর্শন শেষে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ সাংবাদিকদের বলেন, ‘ধর্মের নামে বিএনপি, জামায়াত ও হেফাজত তাণ্ডব চালাচ্ছে। আঘাত এসেছে, এখন প্রতিঘাত করতে হবে।

এতকিছুর পর আজ বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে মামুনুল হককে ঢাকা ডিবি পুলিশ মোহাম্মদপুর মাদ্রাসা থেকে গ্রেফতার করেছে।

এরআগে কথিত শিশু বক্তা মাও. রফিকুলকে নেত্রকোনা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।