কক্সবাজারে পূজামণ্ডপ ও হিন্দুপল্লীতে হামলা-অগ্নিসংযোগ:গ্রেফতার ৯

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার কিন্তু আতঙ্ক কাটছে হিন্দু ধর্মালম্বী মানুষের

কক্সবাজার প্রতিনিধিকক্সবাজার প্রতিনিধি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  01:45 AM, 15 October 2021
ছবি সংগ\হীত

কক্সবাজারে পূজামণ্ডপ ও হিন্দুপল্লীতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পৃথক তিনটি মামলা হয়েছে। এঘটনায় জড়িত সন্দেহে নয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।

পেকুয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে তাদের থানায় অজ্ঞাতপরিচয় সহস্রাধিক আসামির বিরুদ্ধে এসব মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এর মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের ক্ষতিগ্রস্ত দুইজন বাদী হয়ে দুটি এবং পুলিশ বাদী হয়ে অপর একটি মামলা করেছেন।
তবে এঘটনায় আটককৃতদের নাম-পরিচয় বলতে চাননি তিনি।

বুধবার সন্ধ্যায় একদল লোক মিছিল নিয়ে এসে পেকুয়া ইউনিয়নের বিশ্বাসপাড়ার পূজামণ্ডপে হামলা ও ভাংচুর চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় আশপাশের হিন্দু সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকটি বসতবাড়িতে ভাংচুর চালায়। আরও খবর>>কুমিল্লায় মন্দিরে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় গ্রেফতার ৪১

এঘটনায় হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ পেকুয়া উপজেলা শাখার সভাপতি প্রদীপ কুমার সুশীল গণমাধ্যমকে জানান, দুর্বৃত্তদের হামলায় পেকুয়া সদরের বিশ্বাসপাড়া পূজামণ্ডপের গেটসহ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া শিলখালী ইউনিয়নের শীল পাড়া পূজামণ্ডপে হামলা চালিয়ে প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে।
এ ঘটনার পর থেকে পুলিশসহ আইন-শৃংখলা বাহিনীর টহল জোরদার হলেও স্থানীয় হিন্দুদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে।

পেকুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “স্থানীয় বিএনপি-জামায়াত ও হেফাজত ইসলামের কর্মীরা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পরিকল্পিতভাবে এ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধাতে সরকার বিরোধীরা এই অপচেষ্টা চালাচ্ছে।”

এদিকে সর্বশেষ খবরে জানা গেছে কুমিল্লায় মন্দিরে প্রতিমা ভাংচুর ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে মারধরের ঘটনায় আটক করা হয়েছে ৪৩ জনকে। এরআগে ৪১ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছিল পুলিশ।

আপনার মতামত লিখুন :