ওসমানীতে আইসিইউ বেড চালু করা হয়েছে , হবে আইসোলেশন সেন্টার

24
সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

সিলেটের   ওসমানী মেডিক্যাল কলেজে আইসিইউ বেড চালু করা হয়েছে , হতে যাচ্ছে  আইসোলেশন সেন্টার ৷

করোনাভাইরাস মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ে সিলেটে প্রতিদিনই আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা। এ কারণে হাসপাতালে বাড়ছে আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যাও।

ক্রিটিক্যাল রোগীদের দ্রুত আইসিইউতে স্থানান্তর করার প্রয়োজন হলেও ফাঁকা পাওয়া যায় না বেড। এতে রোগীর স্বজনদের মাঝে হাহাকার সৃষ্টি হয়েছে। এমতাবস্থায় ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চালু হয়েছে ৮টি আইসিইউ বেড।

শুরু থেকে এ পর্যন্ত সিলেটে করোনা ডেডিকেটেড শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের ১৪ আইসিইউ বেড দিয়ে করোনা রোগীদের আইসিইউ সেবা প্রদান করা হচ্ছিল। তবে বর্তমানে রোগীদের চাপ বেড়ে যাওয়াতে নতুন করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য আইসিইউ বেড চালু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এ হাসপাতালে ৮টি আইসিইউ বেড চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ৫ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন।

এ হাসপাতালে ২শ’ বেডের করোনা আইসোলেশন সেন্টার চালু হচ্ছে, অনুমোদন মিলেছে আরও ১০টি আইসিইউ বেড চালুর।

হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় জানান, ‘ওসমানীতে আগে থেকেই করোনা রোগীদের জন্য পৃথক ইউনিট করে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছিল। তবে রোগী কমে যাওয়াতে মাঝখানে আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন রোগী ভর্তি বন্ধ করা হয়েছিল। বর্তমানে করোনা শনাক্তের হার বেড়ে যাওয়াতে ফের হাসপাতালের দু’টি ওয়ার্ডকে আইসোলেশন সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি ৮টি আইসিইউ বেডে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত রাখা হয়েছে।’

তিনি জানান, বর্তমানে আইসিইউ বেডে ৫ জন করোনা রোগী ভর্তি আছেন। পাশাপাশি সন্দেহভাজন ৪০ জন, করোনায় আক্রান্ত ৮ জন করোনা ইউনিটে ভর্তি আছেন। শিগগিরই এ হাসপাতালে ২শ’ বেডের পৃথক করোনা আইসোলেশন সেন্টার চালু হচ্ছে, সেখানে আরও ১০টি আইসিইউ বেড স্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে ১০০ শয্যার শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৮৪টি সাধারণ বেড ও ১৬টি আইসিইউ বেড রয়েছে। ১৬ আইসিইউ বেডের মধ্যে ১৪টিতে রোগী ভর্তি করা হয়, আর দুই বেড ডায়ালাইসিস এর জন্য ফাঁকা রাখা হয়। বর্তমানে সবকটি আইসিইউ বেডে করোনা আক্রান্ত রোগী ভর্তি রয়েছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. সুশান্ত মহাপাত্র।

সিলেটে আরও তিনটি বেসরকারি হাসপাতালে করোনা ইউনিট রয়েছে। তিন হাসপাতালেই আছে আইসিইউ সুবিধা। সবমিলিয়ে তাতে মোট ২৯টি আইসিইউ বেড রয়েছে। তবে এসব হাসপাতালেও আইসিইউ বেড ফাঁকা নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গত বছরের ৫ এপ্রিল সিলেটে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হন। আর ১৫ এপ্রিল প্রথম করোনা রোগীর মৃত্যু হয়। এরপর থেকে শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত সবমিলিয়ে এ বিভাগের চার জেলায় করোনায় মারা গেছেন ৩২০ জন। আর এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ৬৪ জন।