ওরা নৌকা চালিয়ে স্কুলে যায়

বাঁশের সাঁকো বানিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি উপজেলা চেয়ারম্যানের

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  06:51 PM, 08 October 2021

শিশু থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকা চালিয়ে স্কুলে যায়। ওরা যশোরের অভয়নগরে ডুমুরতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে। উপজেলার চলিশিয়া ইউনিয়নের ডুমুরতলা নামের ছোট একটি গ্রামে ওদের বেড়ে ওঠা। বিদ্যালয়সহ গ্রামটি ভবদহ এলাকায় হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে গ্রামজুড়ে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। এবারও তার ব্যতয় ঘটেনি। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট ও ক্ষেতের ফসল। ভেসে গেছে শতশত মৎস্য ঘের। চারিদিকে অথৈ পানি আর পানি।

সরেজমিনে ওই স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, চারিদিকে পানি আর পানি। সেই পানির মধ্যে ডুমুরতলা সরকারি বিদ্যালয়ের ভবনগুলো দাঁড়িয়ে আছে। স্কুলের পুরাতন ভবনের শ্রেণিকক্ষের ভেতরে পানি। যেকারণে সেখানে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে পাশের নতুন ভবনে পাঠদান চলছে। এসময় স্কুলের খেলার মাঠে জমে থাকা পানির বুক চিরে একটি নৌকা আসতে দেখা যায়। নৌকা চালাচ্ছে কয়েক শিশু। তাদের পরণে সাদা রঙের টিশার্ট ও নীল রঙের প্যান্ট। ওদের নৌকা স্কুলের নতুন ভবনের বারান্দায় এসে দাঁড়ায়। নৌকা থেকে নেমে ওরা প্রবেশ করে শ্রেণিকক্ষে। শুধু এই তিন শিক্ষার্থী নয়, ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদেরও যাতায়াত করতে হয় নৌকায়।

পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র দেব কুমারের সঙ্গে কথা হলে সে জানায়, প্রথম শ্রেণি থেকে সে এই স্কুলে পড়ালেখা করছে। বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়ার রাস্তায় কোমর পানি। আগে বাইসাইকেলে করে স্কুলে আসলেও এখন নৌকায় করে আসতে হয়। বাড়িতে দুইটি নৌকা থাকায় একটি নৌকা নিয়ে সে নিজে কয়েক বন্ধুকে সাথে করে স্কুলে আসে। নৌকা ডুবে গেলে কি হবে এমন প্রশ্নে দেব কুমারসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা হাসতে শুরু করে। এসময় ওই শ্রেণির ছাত্রী মিনতী রাণী বলে, জন্মের পর থেকে জলের মধ্যে বসবাস। ছোট-বড় সকলে সাঁতার কাটতে জানে। তাই নৌকা ডুবে গেলে আমাদের সমস্যা হয় না। তবে বইখাতা স্কুলড্রেস ভিজে যায়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পলাশ মল্লিক জানান, স্কুলের পুরাতন ভবনের সব শ্রেণিকক্ষের মধ্যে হাঁটু পানি জমে আছে। নতুন ভবন না থাকলে স্কুল বন্ধ রেখে অন্যত্র ক্লাস করাতে হতো। বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে ভবদহ এলাকায় পানি বাড়তে শুরু করায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে স্কুল সংলগ্ন পাকা সড়কে প্রায় ৩ ফুট পানি। স্কুল মাঠে ৬ থেকে ৭ ফুট পানি জমে আছে। গত ৩ মাস ধরে এই অবস্থা বিরাজ করছে।

তিনি আরো জানান, স্কুলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬০ জন, শিক্ষক ৫ জন। হাঁটু পানিতে ডুবে থাকা পাকা রাস্তা থেকে স্কুলে পর্যন্ত যাতায়াতে নৌকার প্রয়োজন হয়। যেকারণে গ্রামবাসী ও ম্যানেজিং কমিটি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য স্থায়ীভাবে দুটি নৌকা দিয়েছে। যা স্কুলের সকলে ব্যবহার করেন। তবে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ্ ফরিদ জাহাঙ্গীর সরেজমিনে আমাদের স্কুলে এসেছিলেন। জলাবদ্ধতা দেখে তিনি একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। সাঁকো হলে স্কুলে যাতায়াতের জন্য নৌকার প্রয়োজন হবে না।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ্ ফরিদ জাহাঙ্গীর জানান, ভবদহ এলাকার কয়েকটি স্কুল পরিদর্শন করেছি। সব থেকে ঝুঁকি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে রয়েছে ডুমুরতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নৌকায় করে যাতায়াত করতে হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব ওই স্কুলে যাতায়াতের জন্য একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে দেয়া হবে।

বাংলাদেশ

আপনার মতামত লিখুন :