এনজিও’র ঋণ নিয়ে ত্রাণ বিতরণ করছেন কাউন্সিলর বাবলু

11

মণিরামপুর(যশোর)প্রতিনিধি:এক বেলার পর পরের বেলা খাওয়ার জন্য নিজের ঘরে চাল-ডাল থাকে না। তারপরও এনজিও’র ঋণ নিয়ে চাল-ডাল, সবজি, তৈল, মাছসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে করোনা লক ডাউনে বিপর্যস্ত অসহায় মানুষের বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে যাচ্ছেন কাউন্সিলর বাবলুর রহমান। গত দুই দিন ধরে তিনি এই খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম শুরু করেছেন।
বাবলু যশোরের মণিরামপুর পৌর সভার ৮ নং ওয়ার্ড (কামালপুর ও মোহনপুর গ্রামের আংশিক) নির্বাচিত কাউন্সিলর এবং স্বেচ্ছাবেকলীগ পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক। গত ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নানা ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। সেদিন ফলাফল ঘোষণায় বিলম্ব হওয়ায় ওই রাতে গ্রামের কয়েকশ’ নারী-পুরুষ ভোট কেন্দ্র ঘিরে রাখে। এক পর্যায় রাত সাড়ে ৯ টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করতে বাধ্য হন কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং অফিসার।
সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় না থেকে কঠোর লক ডাউনে দূর্বিসহ হয়ে ওঠা মানুষের জীবন-জীবিকার কথা মাথায় নিয়ে ঋণের টাকায় চাল-ডাল, মাছ, তৈল, আটা, ছোলা সবজিসহ ১৪ রকমের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য কিনে অসহায় মানুষের বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছেন কাউন্সিলর বাবলুর রহমান ওরফে পাগলা বাবুল। শুধু এবারই প্রথম নয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ যে কোন বিপদে ওয়ার্ডের অসহায় মানুষের পাশে সবার আগেই পৌঁছে যান বাবলুর রহমান। এর প্রতিদানও পেয়েছেন কাউন্সিলর বাবলুর রহমান। গেলো নির্বাচনে ওয়ার্ডের আপামর জনসাধারণের ভালবাসায় ফের কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন।
কাউন্সিলর বাবলুর রহমানের সহধর্মিনী জাকিয়া বেগম বলেন, ‘উনি (বাবলুর রহমান) গ্রাম নিয়েই পড়ে আছেন, কি করলি মানুষের ভাল হবে-এই হলো তার ধ্যান-জ্ঞান। সন্তানরা পরের বেলায় কি খাবে তার খোজঁও রাখেন না। গত সপ্তাহে আদ্ব-দ্বীন সমিতি থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণ তুলে আবার গ্রামের মানুষের জন্যি খাবার কিনেছে।’
বাবলুর বৃদ্ধা মা আশুরা বেগম বলেন, ছেলের এমন কর্মকান্ডে প্রথম দিকে খারাপ লাগত, কিন্তু গ্রামের মানুষ বাবলুরে ভাল বলে, তাই বাবলুকে নিয়ে গর্ভ হয়।
বয়োবৃদ্ধা হালিমা বেগম বলেন, ‘বাবলু আমাগের জন্যি যা করে তা নিজের ছেলে-পুলেও করে না।’ আলেয়া বেগম নামের অপর এক বয়োবৃদ্ধা বলেন,‘ রোগে চলার জো নেই, তাই কয়দিন আগে বাবলু নিজিই ভাতার টাহা তুলে আনে দেছে।’ প্রায় অভিন্ন কথা বলেন আমেনা বেগমস, জামির মোল্যা, সাখাওয়াত হোসেন, ইছহাক আলীসহ অনেকেই।
কাউন্সিলর বাবলুর রহমান বলেন, গেলো নির্বাচনে গ্রামের মানুষ চাঁদা তুলে তাকে ৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা দেয়। নির্বাচনে সব টাকা খরচ হয়নি। ওইখান থেকে বেচে যাওয়া এবং ঋনের টাকায় কেনা এসব পণ্য সামগ্রি ২শ’৬০ পরিবারের মাঝে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।