একমাত্র মিষ্টিপানির জলাধার ঝলমলিয়া দিঘী পরিষ্কারে নেমেছে মন্দির কমিটি

18


বাগেরহাট প্রতিনিধি:
বাগেরহাটে লবনাক্ত রামপাল উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক জলাধার ঐতিহ্যবাহী ঝলমলিয়া দিঘী’র কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছেন স্থানীয় জনগণ। মিষ্টিপানির নিরাপদ এ দিঘী পরিষ্কার রাখতে ঝলমলিয়া দুর্গা মন্দির কমিটির আয়োজনে ও স্থানীয় জনগণের সমন্বয়ে শতাধিক মানুষ এই কচুরিপানা পরিষ্কারে অংশগ্রহণ করেন।
শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া বিশাল দিঘীর কচুরিপানা প্রায় এক সপ্তাহ ধরে পরিষ্কার করা হবে। সুপেয় জল রক্ষার্থে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে হুড়কা ইউপি চেয়ারম্যান তপন কুমার গোলদার।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, চারিদিক নোনাজলে বেষ্টনী থাকলেও এই পুকুরের জল সারাবছরই থাকে মিষ্টি। দূর দূরান্ত থেকেও এই সুপেয় মিষ্টি জল নিতে ছঁুঁটে আসেন শত-শত মানুষ। আবার এই পুকুরের জল বহন করে তা বিক্রি করে জীবন বাঁচে অনেক পরিবারের। এক কথায় অপরিহার্য এই পুকুরের সুপেয় মিষ্টি জলের উপর নির্ভরশীল এখানকার হাজার হাজার পরিবার। পুকুরে স্নান ও হাত-মুখ ধোঁয়া, গবাদিপশু পুকুরে নেমে জল নষ্ট করা, ময়লা আবর্জনা ফেলা, পুকুরের মাছ নিধন সম্পুর্ণ নিষিদ্ধ। ঐতিহ্যের এই পুকুর সংস্কার ও সুপেয় জল নিরাপদ রাখতে তাই স্থানীয়দের সমন্বয়ে নেই কোন কার্পণ্যতা।
হুড়কা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক বিচিত্র বীর্য পাড়ের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ঐতিহ্যের এই পুকুর সংস্কার ও দেখভাল সর্বদাই করে থাকি। আমাদের নির্ভোরতার সুপেয় জলের একমাত্র এই ঝলমলিয়া দিঘীই ভরসা। তাই এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে প্রতিবছরই পুকুরের শ্যাওলা ও কচুরিপানা পরিষ্কার করা হয়ে থাকে। যে কোন মূল্যে আমাদের এই পুকুরের জল নষ্ট না হয় সেজন্য আমরা সবাই সচেতনতা অবলম্বন করি। হুড়কা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান তপন কুমার গোলদারের সাংবাদিকদের জানান, আমাদের সমন্বয়ের কোন অভাব নেই পুকুর পরিষ্কারে তা আবারও প্রমাণ হলো। আমরা একে অপরের পরিপূরক। চেয়ারম্যান নয়, একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে এই পুকুরের সুপেয় মিষ্টি জল নিরাপদ ও পরিষ্কার রাখতে তৎপর রয়েছি। যে কোন ভালো কাজে আমি তাদের সাথে থাকি এবং সবসময়ই পর্যবেক্ষণ ও পুকুরের সার্বিক উন্নয়নে আমার লক্ষ্য রয়েছে। এলাকাবাসীর সমন্বয়ে পুকুর পরিষ্কারে আমি অভিনন্দনসহ তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।
ঝলমলিয়া দিঘীর শ্যাওলা ও কচুরিপানা পরিষ্কারে অংশগ্রহণ করেন, শিবানন্দ রায়, এটিইও পুষ্পজিৎ মন্ডল, এ্যাডভোকেট দিব্যেন্দু বোস, সাংবাদিক সুজন মজুমদার, মহানন্দ হালদার, ইউপি সদস্য আব্দুল্লা মোড়ল, শিশির মন্ডল, মতিউর সরদার, রিপন মন্ডল, অক্ষয় বিশ্বাস, স্বপন মন্ডল, বিধান রায়, শ্যামলি মন্ডল, প্রনব সমার্দার, সুকির্তি মন্ডল, আশিষ মন্ডল, প্রফুল্ল মন্ডল, বিভাষ মন্ডল, স্বপন বিশ্বাস, শেখর চৌধুরী, জিতেন মন্ডল, অসিত বিশ্বাস, সুধন্য মন্ডল, সুচন্দনা মজুমদার, গায়েত্রী বিশ্বাস, মিঠুন বাছাড়, বিশ্বজিৎ মন্ডল, নিতা মন্ডল, গোপেশ্বরি বাছাড়, বাসন্তি, কবিতা প্রমুখ।