এএসপি আনিসুল যদি ডাক্তার হতেন তাহলে কী হতো ? (ভিডিও ফুটেজ)

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  08:18 PM, 12 November 2020

>>এএসপি আনিসুল করিমের হত্যাকারীদের দ্রুত সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে
রাজধানীর আদাবরে মাইন্ড এইড হাসপাতালে পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আনিসুল করিম গিয়েছিলেন সুচিকিৎসা পাওয়ার আশা নিয়ে কিন্তু সেখানে চিকিৎসার বদল মারপিটে প্রাণটাই চলে গেল তাঁর। পুলিশের অনুসন্ধানে প্রমাণও মিলেছে।
তিনি যদি ডাক্তার বা স্বাস্থ্য বিভাগের কেউ হতেন তাহলে এতক্ষণে দেশে চিকিৎসালয়গুলোতে মানুষ কী চিকিৎসা সেবা পেতেন নাকি তালা ঝুলতো এ প্রশ্ন আজ সচেতন মহলের।

প্রতিষ্ঠানটির ভিডিও ফুটেজে মারধরের চিত্র দেখা গেছে।
এখন পর্যন্ত এজাহারভুক্ত ১৫ আসামীর ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত সবাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।
মঙ্গলবার দুপুরে শ্যামলীতে উপ-পুলিশ কমিশনারের (তেজগাঁও বিভাগ) কার্যালয়ে এএসপি আনিসুল করিম হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান তিনি।

পুলিশ কমিশনার জানান, হাসপাতালের কোন লাইসেন্স ছিলো না। এছাড়া সরকারি হাসপাতাল থেকে বেসরকারি হাসপাতালে পুলিশ কর্মকর্তাকে নেয়ার সাথে দালালসহ সরকারি হাসপাতালের কেউ জড়িত আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সোমবার (০৯ নভেম্বর) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে হাসপাতালের অ্যাগ্রেসিভ ম্যানেজমেন্ট রুমে এই মারধরের ঘটনা ঘটে। অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালটিতে ভর্তির কিছুক্ষণ পরেই মারা যান শিপন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করায় তারা পুলিশ কর্মকর্তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেছিল। রাজধানীর আদাবর থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশনস) মো. ফারুক মোল্লা জানান, শিপন সর্বশেষ ট্রাফিকের সিনিয়র এসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

তিনি বলেন, (সোমবার) দুপুর পৌনে ১২টায় তিনি মানসিক সমস্যার কারণে হাসপাতালটিতে যান। ১২টার দিকে সেখানেই মারা যান। দীর্ঘক্ষণ অচেতন থাকা অবস্থায়ও তার ভর্তির কার্যক্রম শুরু করা হয়নি। পরে তাকে হাসপাতালের লোকজন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নিয়ে যায়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে নেয়ার আগেই মৃত্যু হয় শিপনের।

সোমবার রাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে আনিসুল করিমের প্রথম নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়। সকালে গ্রামের বাড়ী গাজীপুরে দ্বিতীয় দফা জানাজা শেষে সিটি করপোরেশন কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে।

এখন প্রশ্ন হলো হাসপাতালে বা চিকিৎসকের কাছে মানুষ কখন যান ? নিশ্চয় অসুস্থতা নিয়ে যান সুস্থ হওয়ার জন্য। আর অসুস্থ মানুষের আচারণ সুস্থ মানুষের আচারণের মতো আশা করা কতটা যৌক্তিক ?
মেনে নিলাম এএসপি আনিসুল করিম উচ্ছৃঙ্খল আচারণ করেছিলেন এবং সেটা অস্বাভাবিক কিছু না। কারণ তিনি তো মানসিক রোগী ছিলেন কিন্তু তাকে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা কতটা ভয়াবহ তা কী আমরা বিবেচনা করছি ?
এই নৃশংসতার বিচার কী হওয়া উচিত ?
তিনি যদি ডাক্তার বা স্বাস্থ্য বিভাগের কেউ হতেন তাহলে এতক্ষণে দেশে চিকিৎসালয়গুলোতে মানুষ কী চিকিৎসা সেবা পেতেন নাকি তালা ঝুলতো এ প্রশ্ন আজ সচেতন মহলের।
আমরা প্রত্যাশা করি খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করে দেশে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আন্তরিকতার ঘাটতি রাখবেন না।

ঢাকা বিভাগ

আপনার মতামত লিখুন :