ইসলামিক ফাউন্ডেশন বগুড়ার উপ-পরিচালকের বিরুদ্ধে নানান অনিয়মের অভিযোগ

9
বগুড়ার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিডি আজমল হক তাবলীলিগেই সময় কাটান , সহকর্মীদের তাবলীগে যেতে বাধ্য করেন

ইসলামিক ফাউন্ডেশন বগুড়ার উপ-পরিচালক (ডিডি) আজমল হকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মসজিদের ইমামকে কান ধরে উঠ্‌বস করানো, সহকর্মীদের তাবলীগের চিল্লায় যাওয়া বাধ্যতামূলক করা, কোনো কারণ ছাড়াই মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষকদের চাকরিচ্যুত করাসহ অসংখ্য অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

ডিডি আজমল হকের বেশির ভাগ সময় কাটে তাবলীগের চিল্লায়। বর্তমানে তিনি বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার বিভিন্ন জামে মসজিদে চিল্লায় অবস্থান করছেন। তাবলীগের দুইগ্রুপের একটির নেতৃত্ব দেন তিনি। জোবায়ের পন্থি হিসেবে পরিচিত সরকারি এই কর্মকর্তা। বগুড়ায় সাদ এবং জোবায়ের পন্থিদের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনি জোবায়ের পন্থিদের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

গত ৩রা এপ্রিল সোনাতলা উপজেলার আগুনেতাইড় মিয়াপাড়া জামে মসজিদে উস্কানিমূলক বক্তব্যের জের ধরে মুসল্লিদের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে রাতের আঁধারে তিনি ওই মসজিদ ত্যাগ করে পাশের গ্রামে সরদারপাড়া জামে মসজিদে চলে যান। বর্তমানে সেখানে অবস্থান করছেন।

শেরপুর উপজেলার মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষক হাফেজ আব্দুল ওয়াহাব অভিযোগ করে বলেন, কিছুদিন আগে সামান্য বিষয় নিয়ে ডিডি আজমল হক তাকে কান ধরে ওঠবস করান। এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে পরে বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে মীমাংসা করেন।
একই কার্যক্রমের শিক্ষক গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ির কোলারবাড়ি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের শিক্ষক সুলতানা ইয়াসমিন জানান, তিনি দীর্ঘদিন থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের শিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। হঠাৎ করে গত বছরের জুলাই থেকে তার বেতন বন্ধ করে দিয়েছেন ডিডি আজমল।

বগুড়া জেলা প্রশিক্ষক শাহআলম জানান, কোনো কারণ ছাড়াই তাকে ডিমোশন দিয়ে শিবগঞ্জ উপজেলায় প্রেরণ করেছেন। এ ছাড়াও বগুড়া অফিসের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী বলেছেন, ডিডি আজমল তাদের সঙ্গে সবসময় দুর্ব্যবহার করেন।

সোনাতলা উপজেলার দাউদপুর জামে মসজিদের শিক্ষক মাসুদ রানা বলেন, কিছু আগে ডিডি তার বাসায় আসেন। এসে তাকে বলেন তোমাকে চিল্লায় যেতে হবে। আগামী ১৮ই এপ্রিল পরবর্তী চিল্লার তারিখ ঠিক করা হয়েছে সেইদিনের জন্য তুমি প্রস্তুত হও। ওই শিক্ষক আরো বলেন, আমার সদ্য জন্ম নেয়া সন্তানের কথা ডিডিকে জানানোর পরেও তিনি চিল্লার জন্য উসুল (বুকিং মানি) আদায় করেছেন।

এ ছাড়াও সোনাতলা উপজেলার বিভিন্ন জামে মসজিদের শিক্ষক নূরুল আলম, মহসিন আলী, রেজাউল করিম, আশরাফুল আলমসহ অনেক শিক্ষকই জোর করে তাবলিগে যাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টির অভিযোগ করেছেন।

এসব বিষয় জানতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বগুড়ার উপ-পরিচালক আজমল হকের কার্যালয়ে একাধিকবার গেলেও তার দেখা পাওয়া যায়নি। অফিস কর্মীরা জানিয়েছেন তিনি তাবলীগ জামাতের চিল্লায় আছেন। মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তার ফোন বরাবরই বন্ধ পাওয়া যায়।