ইউপি নির্বাচনের হাওয়া! মণিরামপুরের ঢাকুরিয়া ইউপি নির্বাচনে নৌকার মাঝি হতে চান মঞ্জুরুল হাসান সাজ্জাদ

20

নূরুল হক, মণিরামপুর প্রতিনিধি:
আসন্ন ইউপি নির্বাচনের লক্ষে নির্বাচন কমিশন কিছু ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষে তফসীল ঘোষনা করেছেন। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে আগ্রহি প্রার্থী ও তাদের কর্মী সমর্থকগণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। কোন কোন প্রার্থী দোয়া চেয়ে চোখে পড়ার মতো বিভিন্ন স্থানে তার পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন ঝুলিয়েছেন। চায়ের দোকান, হাট-বাজার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ সবখানে নির্বাচনে-কে কে প্রার্থী হচ্ছেন সে আলোচনা জমে উঠেছে। তবে আলোচনা এবং প্রচারণা খুবই সরব হয়ে উঠেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের পক্ষে।
তারই ধারাবাহিকতায় মণিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও মেম্বর পদপ্রার্থীরা জোরালো ভাবে প্রচার-প্রচারণায় নেমে পড়েছেন। বিশেষ করে মণিরামপুরের ৪নং ঢাকুরিয়া ইউনিয়নেও খুব জোরে সোরে চলছে প্রচার-প্রচারণাসহ আলোচনা-সমালোচনা। দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশিরা ছুটছেন উপজেলা, জেলা এমনকি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে। এ ইউনিয়নে ক্ষমতাসিন দল আওয়ামীলীগ থেকে প্রায় অর্ধডজন নেতা চেয়ারম্যান প্রার্থী হবার ইচ্ছা পোষন করছেন। তবে এদের মধ্যে আলোচনার শীর্ষে আছেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জিএম মঞ্জুরুল হাসান সাজ্জাদ।
ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জিএম মঞ্জুরুল হাসান সাজ্জাদ ব্যাক্তি জীবনে একজন সৎ ও ন্যায়পরায়ণ মানুষ হিসেবে এলাকায় তার একটি ক্লিন ইমেজ রয়েছে। সব দিক বিবেচনায় এলাকাবাসী মনে করেন মনোনয়ন দৌঁড়ে তিনি এগিয়ে আছেন। সাজ্জাদের ধারাবাহিক রাজনীতিতে ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহবায়ক ও সভাপতি, উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১২ সাল সাল থেকে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকেরও দায়িত্ব দক্ষতার সাথে পালন করে চলেছেন। তাছাড়া শিক্ষানুরাগী হিসেবে তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে শিক্ষানুরাগী হিসেবে দায়িত্বপালন করে থাকেন। যে কারণে ইউনিয়নের সকল পর্যায় মানুষের কাছে তার একটা আলাদা গ্রহণযোগ্য অবস্থান সৃষ্টি হয়েছে। তিনি সমাজ উন্নয়নে সর্বদা তৎপর থাকেন তিনি। তাই উন্নয়নের লক্ষকে সামনে রেখে বৃহৎ পরিসরে সমাজ তথা দেশের উন্নয়নে এলাকার জনগণের সমর্থন নিয়ে এবার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চান। ইতোমধ্যে তার পক্ষে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে মাঠে নেমেছেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দসহ ও যুবক সম্প্রদায়। তাছাড়া তার কর্মী সমর্থকগণ ইতোমধ্যে তাকে এ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে পেতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন।
মনোনয়ন প্রত্যাশী সাজ্জাদ বলেন, ‘আমার পিতা মরহুম হারেজ আলী আজীবন আওয়ামীলীগের সাথে থেকে কাজ করেছেন। স্বাধীনতা পরবর্তীতে দলের দুঃসময়সহ সকল সময়ে দলের জন্যে দক্ষ সংগঠক এবং নিবেদিত প্রাণ হিসেবে দায়িত্ব পালন গেছেন। আমি দীর্ঘদিন ধরে দলের সকল কর্মকান্ডে জড়িত রয়েছি, নেতাকর্মীদের সুখে-দঃুখে পাশে থেকেছি। স্থানীয় পর্যায়ের বেশিরভাগ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ আমার সঙ্গে রয়েছেন এবং আমাকে নির্বাচন করার প্রস্তাব দিয়েছেন।’
প্রতিবেদকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি জন্মসূত্রে আওয়ামীলী পরিবারের সন্তান। দলের জন্য অনেক অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। ২০১৩ সালে জামায়াত-বিএনপির সন্ত্রাসী দ্বারা বারবার হামলার শিকার হয়েছি। এই সালে ১৮ আগষ্ট স্থানীয় ঢাকুরিয়া বাজারে দিনের বেলায় জণগণের সামনে রাস্তার উপর আমাকে মেরে রক্তাক্ত করে মৃত নিশ্চিত বেবে ফেলে রেখে যায়। কিন্তু আল্লাহর মেহেরবানীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও তার চিহ্ন এখনও আমার শরীরে বিদ্যমাণ। প্রায় শরীরের বিভিন্ন স্থানে যন্ত্রনাসহ চলাচলের বিঘœ ঘটায়।
সার্বিকদিক বিবেচনা করে আশা করি দল আমাকেই মনোনয়ন দেবে এবং মনোনয়ন পেলে অবশ্যই বিজয়ী হবো ইনসাল্লাহ।’