আশাশুনিতে ইউনিয়নে ভিন্নদল ও নাশকতা মামলার আসামি নিয়ে আ’লীগের কমিটি

14

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বরাবর অভিযোগ পেশ করে ওই কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী। এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়েছে।
খাজরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিলন কান্তি মন্ডল ও যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১ মার্চ চলমান রুহুল কুদ্দুস-মিলন কান্তির নেতৃত্বাধীন ইউনিয়ন কমিটি কোন প্রকার সাংগঠনিক বৈঠক ওয়ার্ড কাউন্সিল ও সিদ্ধান্ত ছাড়াই গোপনে ভেঙে দেয়া হয়। এরপরই গঠন করা হয় ৩২ সদস্যের খাজরা ইউনিয়ন কমিটি। এই কমিটির অনুমোদন দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মোস্তাকিম ও সাধারণ সম্পাদক শম্ভুজিত মন্ডল। তবে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক খাজরা ইউপি চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ ডালিম বলেন, তিনি এ সম্পর্কে কিছুই জানেন না।
এদিকে রুহুল কুদ্দুস-মিলন কমিটি চলমান থাকা অবস্থায় ওহিদুল ইসলামকে সভাপতি ও সুরোধনী সরকারকে সাধারণ সম্পাদক করে বানানো ৩২ সদস্যের কমিটিতে বিএনপি এবং জামায়াতের নেতাকর্মী ছাড়াও নাশকতা মামলার আসামিও রয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীরা এই কমিটি বাতিল করে সাবেক কমিটি বহাল রাখার আবেদন জানিয়েছেন। তারা বলেন, এই কমিটির সভাপতি যিনি হয়েছেন তিনি ২০ বছরের বেশী সময় ধরে খুলনায় থেকে বিএনপির রাজনীতি করেছেন। এখন তিনি গ্রামের বাড়ি এসে হঠাৎ আওয়ামী লীগ হয়ে গেছেন। কয়েকজন রয়েছেন নাশকতাসহ বিভিন্ন মামলার আসামি। ঘরে বসে কমিটি গঠন এবং তার মধ্যে ভিন্ন দলের লোকজন ও নাশকতার আসামিদের অন্তর্ভূক্ত করায় আওয়ামী লীগের মত বিশাল দলের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তারা। তারা অভিযোগ করে বলেন, চলমান কমিটির সভাপতি রুহুল কুদ্দুসকে সহসভাপতি দেখিয়ে সভাপতি হিসাবে অহিদুল ইসলামের নাম অন্তর্ভূক্ত করে তার বিএনপির রাজনৈতিক চরিত্র মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। মোটা অংকের টাকার লেনদেন হয়েছে অভিযোগ করে তারা আরও বলেছেন, বর্তমানে আওয়ামী লীগ সাবেক বিএনপি নেতা অহিদুল ইসলামের অনুকূলে নৌকা প্রতীক এনে চেয়ারম্যান পদে দাঁড় করানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা এর প্রতিবাদ জানান।
এসব বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শম্ভুজিত মন্ডলকে বারবার ফোন করলেও তিনি ধরেননি। এছাড়া সভাপতির পদ থেকে সহসভাপতি পদে অন্তর্ভূক্ত হওয়া আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল কুদ্দুসের সাথেও মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা যায়নি।
নতুন গঠিত ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি অহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ১৯৮২ সালে সাতক্ষীরা কলেজ ছাত্রলীগের জিএস ছিলাম। আমি ১৯৯৫ সাল থেকে খুলনায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে আসছি। বর্তমানে আমি খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের ২৭ নং ওয়ার্ডের সহসভাপতি। আমি কখনও বিএনপি করিনি, আমার পরিবারও বিএনপি করে না’। তিনি আরও বলেন, ওয়ার্ড পর্যায়ে কাউন্সিল করে সাংগঠনিক বিধান মেনে খাজরা ইউনিয়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘কোন প্রকার কাউন্সিল না করেই হঠাৎ করে চলমান কমিটি ঘরে বসে ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি গঠনের অভিযোগ পেয়েছি। এই কমিটিতে কয়েকজন ভিন্ন দলের লোকও রয়েছেন বলে অভিযোগ পেয়েছি। এসব অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’।