আল জাজিরার ‘পেইড নিউজ!

28

>>বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থার কথা ভাবছে বাংলাদেশ-পররাষ্ট্র মন্ত্রী
এবিসি ডেস্ক:
আল জাজিরা বাংলাদেশ নিয়ে যে প্রতিবেদন করেছে এতে তথ্যগত ভুল আছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, সংবাদ মাধ্যমটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা ভাবছে বাংলাদেশ। আল জাজিরার প্রতিবেদনকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ ও ‘পেইড নিউজ’ হিসেবে উল্লেখ করে এখনই দেশে সংবাদ মাধ্যমটির সম্প্রচার বন্ধ করার পরিকল্পনা নেই বলেও জানান মন্ত্রী।

বুধবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আল জাজিরা একটা প্রতিবেদন করেছে, একটা ছবি দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর পেছনে দাঁড়ানো দুই ভদ্রলোক, দুই ভাই যারা বিতর্কিত, বলছে তারা প্রধানমন্ত্রীর বডিগার্ড। যেটি ডাহা মিথ্যা। উনার (প্রধানমন্ত্রী) কোনো বডিগার্ড নেই, বিরোধী দলে থাকাবস্থায়ও ছিল না, সব নেতাকর্মীরাই তার বডিগার্ড। এখন এসএসএফ আছে। কেউ পেছনে এসে ছবি তুললেই বডিগার্ড হয়ে যায় না। এটি তাদের মিথ্যা সংবাদ। আলজাজিরার মতো নামকরা গণমাধ্যম এ ধরনের সংবাদ করতে পারে, বিষয়টি অবাক করার। তাদের (আলজাজিরা) উচিত ক্ষমা চাওয়া।’

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমটির সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘আল জাজিরা বাংলাদেশের ভালো জিনিস দেখতে পারে না। আল জাজিরার কাজই হচ্ছে মুসলিম দেশগুলোর দোষ খুঁজে বের করা। সেখানে অনেকে ফান্ডিং করে। ব্রিটিশরা নিয়ন্ত্রণ করে এটি। আমাদের একজন জামাই তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন। যেটি খুবই দুঃখজনক, যারা সবসময়ই ভালো জিনিসের বিপক্ষে আছেন।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরাসরাসরি আল জাজিরার সঙ্গে যোগাযোগ করিনি। আমরা এই প্রতিবেদনের নিন্দা জানিয়েছি।’

এ সময় তিনি জানান, বাংলাদেশে আপাতত আল জাজিরার সম্প্রচার বন্ধ করার পরিকল্পনা সরকারের নেই। তার মতে পৃথিবী এখন উন্মুক্ত, বন্ধ করে খুব লাভ হয় না। তবে আলজাজিরা আরও দায়িত্বশীল হবে বলে প্রত্যাশা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এক প্রশ্নের জবাবে মিয়ানমার পরিস্থিতির দিকে বাংলাদেশ নজর রাখছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। বাংলাদেশে অবস্থানরত দূতাবাস ও চীনা দূতাবাসের মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন করার চেষ্টা চলছে। মিয়ানমারের ঘটনা প্রতিবেশী দেশ হিসেবে পর্যবেক্ষ করছে বাংলাদেশ।’

বাংলাদেশ গণতন্ত্রের সমর্থনে উল্লেখ করে মিয়ানমার গণতন্ত্রের ধারায় আসবে বলে প্রত্যাশা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে বাংলাদেশ এখনো সামরিক সরকারকে সমর্থন জানায়নি, একইভাবে সু চি’র মুক্তি নিয়েও কোনো মন্তব্য করতে রাজি নয় বলে জানান মন্ত্রী।