আমি প্রতিহিংসার রাজনীতি করি না-মেয়র প্রার্থী খান হাবিবুর

21

বাগেরহাট প্রতিনিধি:২০০৪ সালে চরমভাবে প্রতিহিংসার শিকার হয়েছিলাম। আমাকে মাজায় দড়ি দিয়ে আসামির মতো দিনে দুপুরে বাগেরহাট শহরে ঘুরানো হয়েছিল। শুধু তাই নয়, আমার পোষা গরু বাড়ি থেকে ধরে জবাই করে আমার বাসার সামনে নাগেরবাজার মোড়ে ‘হাবিখা ৫শ টাকা কেজি’ বলে মাংস বিক্রি করেছিল। তারা আজও এ শহরে শান্তিপূর্ণ ভাবে বসবাস করছে- আমি তাদের আজঅবধি কোন প্রকার ক্ষতি সাধন করার চেষ্টা করিনি। কারণ আমি প্রতিহিংসার রাজনীতি করি না। আমি একজন ফুটবল খেলোয়াড় ছিলাম, জয় পরাজন মেনে নেয়ার মানসিকতা আমার ছোট বেলা থেকেই গড়েছি। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ¦ীতা আমার পছন্দ। বিনা প্রতিদ্বন্দ¦ীতায় আমি পৌর মেয়র হতে চাইনি। এতে কোন কৃতিত্ব নেই।
সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে শনিবার রাতে বাগেরহাট শেখ হেলাল উদ্দিন স্টেডিয়ামের অডিটোরিয়ামে এসব কথা বললেন নৌকার প্রার্থী বাগেরহাট পৌর সভার একাধিকবারের নির্বাচিত মেয়র খান হাবিবুর রহমান।
আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি বাগেরহাট পৌর সভার নির্বাচন উপলক্ষে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে মতবিনিময় সভার ধারাবাহিকতার দ্বিতীয় দিনে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন যাবত আমি বাগেরহাট পৌর সভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। বাগেরহাট শহরের কি উন্নয়ন করেছি তা ব্যাখা দিতে চাই না। সেবক হিসেবে কাজ করেছি মাত্র। জামায়াত-বিএনপি জোট সরকারের আমালে বাগেরহাটে সব থেকে বেশি অপমানিত ও নির্যাতিত হয়েছি। কিন্তু কখনো প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে কারো কোন ক্ষতি করিনি। বিএনপির প্রার্থী শৈবাল নাকি প্রচার প্রচারণা চালতে পারছে না-এধরণের মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে শহরে পরিকল্পিত ভাবে। আমি কোন অবস্থাতেই বাগেরহাটের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট হতে দিব না। আপনারা জানেন বাগেরহাটে বিএনপির দুইটি পক্ষ একে অপরকে কিভাবে হেয় প্রতিপন্ন করে চলেছে। সে ঘটনাকে ভিন্নখাতে পরিচালিত করতেই তাদের এই অপ-প্রচার। মতবিনিময় সভার সভাপতি বাগেরহাট জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ভুইয়া হেমায়েত হোসেন ছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক নকিব নজিবুল হক নজু, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ বশিরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।
আওয়ামী লীগ নেতা নকিব নজিবুল হক নজু বলেন, বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের দূঃসময়ের কান্ডারী নৌকার প্রার্থী খান হাবিবুর রহমান। বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে তিনি ভোট যুদ্ধে অংশ নিয়েই বাগেরহাট পৌর সভার মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। দীর্ঘ দিন ধরে তিনি পৌর সভার উন্নয়ন করেছেন। এই উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখেতেই আওয়ামী লীগের দলীয় সভানেত্রী বাগেরহাটের জনপ্রিয় এই নেতাকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি পৌর নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই নামে মাত্র একজন প্রার্থী দিয়েছেন। বাগেরহাট জেলা বিএনপির বিবাদমান এক পক্ষ অপর পক্ষকে ঘায়েল করতে দীর্ঘদিন লিপ্ত রয়েছে, যা সংবাদকমীরা সব থেকে ভালো জানেন। তাদের দীর্ঘদিনের আভ্যন্তরীণ কোন্দলকে পুঁজি করে এখন বিএনপির মেয়র প্রার্থীর প্রচার প্রচারণায় বাধা দেয়া হচ্ছে বলে মিথ্যা গুজব ছড়াচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।