আনন্দ-উচ্ছ্বাস নেই ভবদহ অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে !

অবকাঠামোগত উন্নয়নে জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি

মণিরামপুর প্রতিনিধিমণিরামপুর প্রতিনিধি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  01:45 PM, 13 September 2021
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জল-কাদা

স্থায়ী জলাবদ্ধতায় বন্দী ভবদহবাসীর দুর্ভোগের শেষ নেই। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হয়েছে। কিন্তু ভবদহ এলাকার পঁচিশ শতাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙিনা কাদা পানির কারণে নোংরা পরিবেশ সৃষ্টি হয়ে আছে। যেকারণে ছেলে-মেয়েরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আনন্দ খুঁজে পাচ্ছে না।

বর্ষাকাল আসতেই ভবদহ এলাকাজুড়ে দুর্ভোগের মাত্রা শুরু হয়। বছরের ৬ মাস পানির নিচে থাকে প্রতিষ্ঠানের আঙিনা। পরিত্রাণের উদ্যোগ তেমনটি নেই। যারফলে শ্রেণি কার্যক্রমের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। মণিরামপুর ও অভয়নগরের সীমান্তবর্তী ১৩ গ্রামের মানুষ তাদের স্কুল -কলেজ পড়া ছেলে-মেয়েদের নিয়ে বেশ অসুবিধায় পড়েছেন। করোনা সংক্রমণের কারণে প্রায় দেড় বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। রোববার সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু এই আনন্দ-উচ্ছ্বাস ভবদহ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেই। তার অন্যতম কারণ যাতায়াতের রাস্তা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জল-কাদায় সৃষ্টি হওয়া নোংরা পরিবেশ। এ পরিস্থিতিতে শিশু সন্তানদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন অভিভাবক মহল। বর্ষা মৌসুমের কাদা পানির সাথে লড়াই করে টিকতে হয়।

আরও খবর>>শুধুই গচ্ছা যাচ্ছে সরকারের লাখ লাখ টাকা !

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, মণিরামপুরের সুজাতপুর মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাটগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বাজে কুলটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাটগাছা-সুজাতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিএইসএমএস নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, অভয়নগরের ডুমুরতলা নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ডুমুরতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডহর মশিয়াহাটী উত্তরপাড়া নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মশিয়াহাটী ডিগ্রী কলেজের আঙিনা দীর্ঘদিন ধরে জলমগ্ন রয়েছে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের চলাচল বিঘিœত হচ্ছে। শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ সুরক্ষা কারো পক্ষেই সম্ভব না। শুধু শ্রেণি কক্ষ নয়, টয়লেট ফ্যাসিলিটিজ নির্বিঘœ অবস্থায় নেই। দীর্ঘদিন ধরে পানিবদ্ধতার কারণে পরিবেশ বিপন্ন হয়েছে। স্কুলের ভবন নতুনভাবে নির্মাণের জন্য ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে, জলাবদ্ধতার কারণে নির্মাণ কাজ থমকে গেছে। পাশের একটি উপাসনালয়ে ক্লাস চলছে। বাজে কুলটিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিবেকানন্দ মন্ডল কথাগুলো জানিয়েছেন। মশিয়াহাটী ডিগ্রী কলেজ অধ্যক্ষ মণিশান্ত মন্ডল জানান, ছেলে-মেয়েরা শ্রেণিকক্ষ ছাড়া অন্যকিছু ব্যবহার করতে পারে না। মাঠে মাটি দেয়া হয়েছে, তারপরও ভবদহের জলের চাপ প্রচন্ড। এটি দুর্যোগ, মেনে নিতে হচ্ছে। মণিরামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বিকাশ চন্দ্র সরকার বলেন, সংকট থেকে উত্তরণের চেষ্টা চলছে। ভবদহের অভিশাপ থেকে বাঁচার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ডুমুরতলা নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অনুপ মন্ডল বলেন, বর্ষাকালে আমরা বড়ই কষ্টে থাকি। বছরের ৬ মাস মাঠে পানি থাকে, এভাবেই আমাদের ক্লাস করতে হয়। খেলাধুলার জন্য কোন শুকনো জায়গা নেই। যা কিছু করি ক্লাসের মধ্যে। বর্ষা মৌসুমে বারান্দাতেও পানি ওঠে। ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা অরবিন্দু বিশ্বাস বলেন, স্থায়ী জলাবদ্ধ এলাকার স্কুল কলেজগুলোর মাঠ পানিতে নিমজ্জিত, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কার করা দরকার। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনা দরকার। এজন্য স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উদ্যোগ গ্রহণ অপরিহার্য। ভবদহের নি¤œাঞ্চলের গ্রামগুলির শোচনীয় অবস্থা। নদ নদীর পানি বের হওয়ার সুযোগ কম থাকায় বর্ষা মৌসুমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের উপক্রম হয়। যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে। ডিঙ্গি নৌকা ও কলার ভেলা একমাত্র সম্বল। সুন্দলী ইউপি চেয়ারম্যান বিকাশ রায় কপিল বলেন, শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, সকল সামাজিক, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলি পানিবন্দী হয়ে পড়ে বর্ষার আগমনের সাথে সাথে। দুর্গতি নিয়েই বেঁচে থাকতে হয়। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা মন খুলে পড়ালেখা করতে পারে না। এই সংকট থেকে বাঁচার রাস্তা আমাদের কাছে নেই। এলাকার ভুক্তভোগীদের দাবি, ভবদহ অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নে জরুরী পদক্ষেপ দরকার।

আপনার মতামত লিখুন :