আগুনে পুড়ছে সুন্দরবন

13

>>১৫ বছরে ২৮ বার আগুন ॥ ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
বাগেরহাট/শরনখোলা প্রতিনিধি:পুর্ব-সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের ২৪নং কমর্পামেন্টের আওতাধীন দাসের ভাড়ানী টহল ফাঁড়ির মাঝেরচর এলাকায় গহীন সুন্দরবনে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। (সোমবার (৩ মে) সকাল আনুমানিক পৌনে ১০টার দিকে স্থানীয়রা শরণখোলা-চাঁদপাই রেঞ্জের মধ্যবর্তী এলাকায় ধোয়ার কুন্ডালী উড়তে দেখে প্রথমে সংশ্লিষ্ট দাসের ভাড়ানী ক্যাম্পের বনরক্ষীদের খবর দেন । খবর পেয়ে শরণখোলা রেঞ্জের স্টেশন কর্মকর্তা আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে দাসের ভাড়ানী ভোলা ও নাংলী টহল ফাঁড়ির একদল বনরক্ষীসহ স্থানীয় (সিপিজির) সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। পাশাপাশি শরণখোলা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট একই দিন দুপুরে ক্যাপ এলাকায় পৌঁছালেও লোকালায় হতে অগ্নিকান্ডের এলাকা দুর্গম হওয়ায় বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত তারা পানি সরবারহ করতে পারেননি। বনবিভাগ জানায়, অতিরিক্ত তাপদাহের কারণে মাটির নিচে বিভিন্ন প্রজাতির জমে থাকা গাছের পাতা গরম হয়ে প্রাকৃতিক ভাবে এই অগ্নিকান্ডের সুত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে স্থানীয়দের ধারণা, বনের মধুসহ নানা প্রকার সম্পদ চোরাই পথে যারা আহরণ করেন তাদের অসাবধানতায় এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে।
এদিকে অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে বন-বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) বেলায়েত হোসেন শরণখোলা রেঞ্জের (এসিএফ) জয়নাল আবেদীন, সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মিজানুর রহমান. শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদুর রহমান, শরনখোলা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এমাদুল হক (শামীম) সহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সোমবার বিকেলে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আগুন জ্বলছিল।
নাম গোপন রাখার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, বনরক্ষীদের চোঁখ ফাঁকি দিয়ে কিছু অসাধু মানুষ গভীর জঙ্গলে ঢুকে মাছ. কাকড়া ও মধুসহ নানা সম্পদ সংগ্রহ করে। তাদের অসচেতনতার কারণে এই দুর্ঘটনা বার বার ঘটছে সুন্দরবনে। এ অগ্নিকান্ডের কারণে বন্যপ্রাণীদের ক্ষতি হতে পারে। তাই সুন্দরবন সুরক্ষায় সবাইকে আরো সচেতন হতে হবে।
এ ব্যাপারে শরণখোলা রেঞ্জের (এস.ও) আব্দুল মান্নান জানান, বাতাসের তীব্রতার কারণে আগুন বনের প্রায় দেড়-থেকে দুই একর এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। তবে লতাপাতা ছাড়া বড় গাছ গুলোর যাতে কোন ক্ষতি না হয়, ে জন্য চারদিক থেকে ইতিমধ্যে নালা কাটা হয়েছে। ফাঁয়ার সার্ভিসের কর্মীরা পানি সরবাহ শুরু করলে আর কোন বিপদ থাকবে না। তাছাড়া বন-বিভাগ ছাড়াও আগুন নেভানোর কাজে স্থানীয় বাসিন্দারা সহযোগীতা করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি। আশা করি রাতের আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
এদিকে বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক সরোয়ার হোসেন বিকাল সাড়ে পাচটায় মুঠোফোনে জানান-শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ ও বাগেরহাটের তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করেছে। আগুন লাগার জায়গাটা বেশ দুর্গম। দুই থেকে তিন কিলোমিটার বনের মধ্যে হওয়ায় পানি বেশ খানিকা দূরে। তবে আমাদের কর্মীরা পানির পাইপ টানার কাজ শুরু করেছেন। পানির পাইপ টানার কাজ শেষ হলে আশা করি অল্প সময়ের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রে চলে আসবে ।

অন্যদিকে এঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বন বিভাগ। শরণখোনা রেঞ্জের সহকারি বন সংরক্ষক জয়নাল আবেদীনকে প্রধান করে ধান সাগর স্টেশনের কর্মকর্তা মো ফরিদুল ইসলাম ও শরণখোলা স্টেশনের কর্মকর্তা আব্দুল মান্নাকে সদস্য করে কমিটি গঠন করা হয়েছে । এই কমিটিকে আগামী ৭ কার্য দিবসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে ।
এদিকে সুন্দরবন বিভাগের তথ্যমতে, সুন্দরবনে ১৫ বছরে ২৮ বার আগুন লেগে পুড়ে গেছে প্রায় ৮০ একর বনভূমি। ২০১৭ সালের ২৬ মে পূর্ব সুন্দরবনে চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশনের নাংলী ফরেস্ট ক্যাম্পের আওতাধীন আবদুল্লাহর ছিলায় অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে। ওই আগুনে প্রায় পাঁচ একর বনভূমির ছোট গাছপালা, লতাগুল্ম পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।