‘আইলো রে নয়া দামান’ গান নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য

45

মানুষের ঠোঁটে আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরে ফিরছে গত শতকের ষাটের দশকের ‘আইলো রে নয়া দামান’ গানটি। একসময় এ গান শোনা যেতো বিয়ে বাড়ি ও আঞ্চলিক বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মঞ্চে। বহুকাল পেরিয়ে সেটি এখন ফেসবুক ইউটিউবে এসেছে ডান্স কাভার হয়ে। এ নিয়ে তৈরি হয়েছে নয়া চাঞ্চল্য। যে যাঁর আয়োজন ও সামর্থ্য অনুযায়ী গানটির সঙ্গে নাচ করে ভিডিও শেয়ার করছেন অনলাইনে

‘আইলারে নয়া দামান আসমানেরও তেরা/ বিছানা বিছাইয়া দেও শাইল ধানের নেড়া/ দামান বও দামান বও।’ সিলেটি আঞ্চলিক ভাষার গানটি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী সালমার কণ্ঠে ধারণকৃত গানটি চারদিকে সাড়া ফেলেছে। ইতোমধ্যেই ইউটিউবে গানটি ১০ লাখের বেশি এবং ফেসবুকে ২৫ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সালমা বলেন, বিশেষ ধন্যবাদ এতো সুন্দর একটি প্ল্যাটফর্মে আমাকে গান করার সুযোগ দেয়ার জন্য। গানটি গাইতে পেরে বেশ ভালো লেগেছে। খুব ভালো সাড়া পাচ্ছি।বাংলা গান বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে যাক এই প্রত্যাশা রইলো।

গত মার্চে গানের কথা থাকলেও করোনার কারণে ও ব্যক্তিগত ব্যস্ততায় ময়মনসিংহে থাকায় গানটিতে কণ্ঠ দিতে পারেননি সালমা। তাই গানটি প্রচারে খানিকটা বিলম্ব হয়েছে। জে কে মজলিসের সঙ্গীতায়োজনে গানটিতে প্রচলিত কথা ও সুর ব্যবহার করা হয়েছে।

গানটির মূল শিল্পী একুশে পদকপ্রাপ্ত পণ্ডিত রামকানাই দাসের মা লোককবি দিব্যময়ী দাস। গানটির কথা ও সুর তারই। আজ থেকে ৫০-৬০ বছর আগে প্রচলিত এই গানের রেকর্ড না থাকায় মুখে মুখে প্রচারিত হয়। মানুষের মুখে মুখে চলার কারণে গানের কথায় কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। যেহেতু মূল গানটি সেভাবে সংরক্ষিত হয়নি সেহেতু কিছুটা পরিবর্তন হওয়াই স্বাভাবিক।

পণ্ডিত রামকানাই দাস নিজের অ্যালবামে গানটি ব্যবহার করলেও কোথাও তার মায়ের নাম লেখা ছিলো না। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এটা অনিচ্ছাকৃত ভুল।

গেলো মার্চে প্রবাসী মিউজিশিয়ান মুজা গানটির অডিও ট্র্যাক লিরিক্যাল ভিডিও প্রকাশ্যে আনেন। গানটির ব্যতিক্রমী মিউজিক, কথা ও সুরের কারণে শ্রোতাদের মুখে মুখে চলে আসে। মুজার সঙ্গীতায়োজনে গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন সিলেটের মেয়ে তসিবা বেগম। এবারই প্রথম তিনি কোন গান কাভার করেছেন। গানটি ভাইরাল হওয়ার পর রামকানাই দাসের পরিবারের অনেকেই গানটি প্রকাশ করেন।