আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ করেছেন বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব এ্যাডঃ ইয়ারুল ইসলাম

RanaRana
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  01:53 PM, 08 October 2021

 

জেমস আব্দুর রহিম রানা: 

আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বক্তব্যের প্রতিবাদ করেছে বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব এ্যাডঃ মোঃ ইয়ারুল ইসলাম। আইনমন্ত্রী বলেছেন, নির্বাচন কমিশন গঠনে এখন আইন প্রণয়ন করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ কংগ্রেস প্রস্তাবিত “নির্বাচন কমিশন আইন ২০২১” -এর খসড়াসহ গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে এ্যাডঃ ইয়ারুল ইসলাম বলেছেন, সরকারের সদিচ্ছা থাকলে ইসি গঠনে এক সপ্তায় আইন প্রণয়ন সম্ভব। নির্বাচন কমিশন গঠনে আইনটি কেমন হবে তা সংবিধানের সপ্তম ভাগেই বলা আছে। আইনটিতে আর কী কী রাখা উচিৎ সেটা দেশের বিশিষ্টজন ও রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিলেই সর্বজন গ্রহনযোগ্য একটি আইন প্রণয়ন সম্ভব।

উক্ত আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অনধিক চার জন নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে এবং এই আইন বলবত হওয়ার পর বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ব্যতীরেকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং সেনাবাহিনীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তি, পাবলিক বিশ্বদ্যিালয়সমুহের মধ্য থেকে বয়োজেষ্ঠ্য উপাচার্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তি এবং বর্তমান নির্বাচন কমিশন সচিবকে কমিশনার নিয়োগ করে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। উক্ত ব্যক্তিদের অপারগতায় জ্যেষ্ঠতার ক্রমিকে পরবর্তীদের মধ্য থেকে নিযুক্ত হবেন।

খসড়া আইনের ৩ ধারায় বলা হয়েছে, প্রথম শ্রেণীর মর্যাদায় “ইউনিয়ন নির্বাচন কর্মকর্তা” নিয়োগ দিতে হইবে যাহাদেরকে ইউনিয়ন বা পৌরসভা পর্যায়ে পদায়ন করিতে হইবে এবং পদোন্নতির মাধ্যমে ইউনিয়ন নির্বাচন কর্মকর্তারা উপজেলা, জেলা, ও বিভাগীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করিবেন। বিভাগীয় নির্বাচন কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সরকারের প্রশাসন ক্যাডারের সমমানে উপ-সচিব, যুগ্ম সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব নিয়োগ দিতে হইবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদশূণ্য হলে বয়োজেষ্ঠ্য কমিশনার প্রধান নির্বাচন কমিশনার হবেন এবং নির্বাচন কমিশন সচিবকে পদোন্নতি দিয়ে কমিশনার নিযুক্ত করে কমিশনারের সংখ্যা ঠিক রাখিতে হইবে ।
ভোটার তালিকা প্রণয়ন, সংশোধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান সংক্রান্ত যাবতীয় কার্য নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ইউনিয়ন পর্যায়ে সম্পন্ন করার প্রস্তাব করা হয়েছে আইনটিতে। বলা হয়েছে, সকল প্রকার নির্বাচন পরিচালিত হবে নির্বাচন কমিশনের দ্বারা এবং নির্বাহী বিভাগ নির্বাচন কমিশনকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করিবে।
নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত কিছু প্রস্তাব করে বলা হয়েছে, নির্বাচনে সকল প্রকার প্রচারণা হবে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত ব্যবস্থাপনা ও নির্দেশনা অনুসারে এবং প্রার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত মুদ্রণ ফি গ্রহনপূর্বক নির্বাচন কমিশন সকল প্রার্থীর নাম ও ছবি সম্বলিত পোস্টার মুদ্রন করে প্রার্থীদের মধ্যে সমসংখ্যক পোস্টার বিতরণ করবে এবং নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত স্থানে প্রার্থীরা উক্ত পোস্টার প্রদর্শন করবেন। তবে প্রার্থীগণ নিজ উদ্যোগে মাইকিং ও হাতে হাতে প্রচারপত্র বিতরণ করতে পারবেন।
প্রস্তাবিত আইনের ৭ ধারা অনুসারে জাতীয় সংসদ, সিটি কর্পোরেশন ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জেলা/মহানগর নির্বাচন কর্মকর্তারা এবং ইউনিয়ন ও পৌরসভা নির্বাচনে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা রিটার্নিং অফিসার নিযুক্ত হবেন। নির্বাচনের দিন নির্বাচনী এলাকায় বিশেষ ছুটি ঘোষণা করিতে হইবে এবং সকল প্রকার অফিস ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে। ভোট চলাকালিন সময়ে দলীয় ক্যাম্প স্থাপন পরিচালনা, ভোটারবাহী পরিবহন ও জনসমাগম নিষিদ্ধ করিতে হইবে এবং ভোটার ছাড়া অন্য কেউ বাড়ি থেকে বাহির হইতে কর্তৃপক্ষের পুর্বানুমতি নিতে হবে।
ইভিএম সম্পর্কে খসড়া আইনে বলা হয়েছে, ইলেক্ট্রোরাল ভোটিং মেশিন (ইভিএম)-এর অবস্থান ও পরিচালনায় গোপনীয়তা বজায় রাখতে হবে এবং ভোট প্রদানের পর ভোটারের মোবাইল নম্বরে স্বয়ংক্রিয় বার্তা ও মুদ্রিত টোকেন প্রদান পদ্ধতি চালু করতে হবে।
বাংলাদেশ কংগ্রেস প্রস্তাবিত “নির্বাচন কমিশন আইন, ২০২১”-এর খসড়ায় পলিটিক্যাল ট্রাইব্যুনাল ট্রাইব্যুনাল ও লিডারশিপ ইনস্টিটিউট প্রতষ্ঠিার প্রস্তাব কওে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলি ও দলীয় সদস্যদের যে কোন বেআইনী ও অগণতান্ত্রিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনে ”পলিটিক্যাল ট্রাইব্যুনাল” ও “পলিটিক্যাল আপিলেট ট্রাইব্যুনাল” গঠন করিতে হইবে এবং নির্বাচন কমিশনের অধীনে “ন্যাশনাল লিডারশিপ ইনস্টিটিউট”, “জেলা লিডারশিপ ইনস্টিটিউট” ও ”উপজেলা লিডারশিপ ইনস্টিটিউট” থাকবে।
সর্বশেষে বলা হয়েছে, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে পারষ্পারিক সৌহার্দ সৃষ্টি, রাজনৈতিক সংষ্কৃতির উন্নয়ন, জবাবদিহিতা, দায়িত্ববোধ, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নরোধ, পরমৎসহিষ্ণুতা, দেশপ্রেম, মূল্যবোধ ও নেতৃত্বের বিকাশ, মতামত গ্রহন এবং নির্বাচন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নির্বাচন কমিশনের সাথে দলগুলির সম্পর্কোন্নয়নের লক্ষ্যে দলগুলোর চেয়ারম্যান ও মহাসচিব (বা সমমানের পদধারী)দের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন প্রতি বৎসর ডিসেম্বর মাসের যেকোন সময় দিনব্যাপী বার্ষিক সম্মেলনের আয়োজন করবে।

রাজনীতি

আপনার মতামত লিখুন :