অ্যাস্ট্রোজেনেকার দ্বিতীয় ডোজের সমাধানে হাত বাড়াল জাপান

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  09:21 PM, 24 July 2021

এবিসি ডেস্ক:বাংলাদেশে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষায় থাকা ২ লাখ মানুষের অপেক্ষার পালা শেষ হতে চলল। কোভ্যাক্স সুবিধার আওতায় জাপান সরকারের উপহার হিসেবে ওই পরিমাণ টিকা দেশে পৌঁছেছে। এমন খবর জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।
শনিবার (২৪ জুলাই) বিকাল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে দুই লাখ ৪৫ হাজার ২০০ ডোজ টিকা নিয়ে ক্যাথে প্যাসিফিকের একটি ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছে। এছাড়াও আগামী ১ মাসের মধ্যে আরও প্রায় ২৮ লাখ টিকা জাপান থেকে বাংলাদেশে আসবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত নাওকি ইতো।

জাপান থেকে বাংলাদেশে আসা এই টিকা পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এসময় স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম, ভ্যাকসিন ডেপ্লয়মেন্ট কমিটির সভাপতি ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরাসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, উল্লেখ্য, জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি ১৫টি দেশের জন্য অ্যাস্ট্রাজেনেকার এক কোটি ১০ লাখ ডোজ টিকা কোভ্যাক্সের আওতায় দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। জাপানের উপহার পাবে এমন দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশের নাম। তালিকা অনুযায়ী অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ২৯ লাখ টিকা পাবে বাংলাদেশ। এরই প্রথম চালান এলো আজ।
দেশে গত ৭ ফেব্রুয়ারি করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। শুরুতে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত ও ভারতের সেরাম ইন্সটিটিউটে তৈরি কোভিশিল্ড দিয়ে এই টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলেও ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞায় পরে এ টিকার সংকট হয় দেশে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, এ টিকার প্রথম ডোজ নেওয়া ৫৮ লাখ ২০ হাজার ৩০ জনের মধ্যে সাড়ে ১৪ লাখের বেশি মানুষের দ্বিতীয় ডোজ নেওয়া নিয়ে তৈরি হয় সংকট।
তবে এবারে জাপান সরকারের উপহার দেওয়া এ টিকার মাধ্যমে দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষায় থাকাদের সংশয় কেটে যাবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।
কোভ্যাক্স’র পূর্ণাঙ্গ রূপ হলো কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনস গ্লোবাল অ্যাকসেস ফ্যাসিলিটি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ছাড়াও উদ্যোগটির সঙ্গে রয়েছে কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশন এবং দাতব্য সংস্থা গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (জিএভিআই)।
এ উদ্যোগের লক্ষ্য হচ্ছে, ভ্যাকসিন মজুত করে না রেখে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সর্বোচ্চ ঝুঁকির দেশগুলোতে তা বণ্টন করার জন্য বিভিন্ন দেশের সরকারকে উৎসাহিত করা।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এর আগে জানিয়েছেন, টিকা পেতে গত জুনে কোভ্যাক্সকে চিঠি দেয় বাংলাদেশ। সে হিসেবে আমাদেরকে পর্যায়ক্রমে প্রায় সাত কোটি টিকা দেওয়ার কথা রয়েছে। চিঠি পেয়েছি, তারা আমাদেরকে ২৫ লাখ ভ্যাকসিন দেবে।
আগামী আগস্ট মাসে কোভ্যাক্স সুবিধার আওতায় ফাইজার বায়োএনটেকের আরও ৬০ লাখ ডোজ টিকা আসছে।
প্রসঙ্গত, কোভ্যাক্স সুবিধার আওতায় এর আগে গত দুই এবং তিন জুলাই দেশে যুক্তরাষ্ট্রের মডার্নার টিকা এসেছে ২৫ লাখ ডোজ আর ফাইজার বায়োএনটেকের এক লাখ ৬২০ ডোজ টিকা দেশে এসেছে। সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন।

আন্তর্জাতিক

আপনার মতামত লিখুন :