অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করলেন জো বাইডেন

6

বাড়িতে তৈরি বন্দুক লক্ষ্য করে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। নিবন্ধনহীন এবং শনাক্তের অযোগ্য এসব বন্দুক ‘ঘোস্ট গান’ নামে পরিচিত। বৃহস্পতিবার জো বাইডেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে মহামারি হয়ে ওঠা বন্দুক সহিংসতা আন্তর্জাতিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করছে। নতুন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে নির্দিষ্ট বন্দুকের জন্য নিয়ম তৈরি হবে, ব্যাকগ্রাউন্ড খতিয়ে দেখা জোরালো হবে আর সহিংসতা প্রতিরোধে স্থানীয় উদ্যোগগুলোকে সমর্থন দেওয়া হবে। নির্বাহী আদেশের এসব নির্দেশনা জারি করায় এগুলো বাস্তবায়ন করতে এখন আর কংগ্রেসের অনুমোদনের দরকার পড়বে না। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

নির্বাহী আদেশ জারি করা হলেও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে এখনও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। মার্কিন সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে নাগরিকদের অস্ত্র বহনের অধিকারকে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। আর একারণে অনেকেই অস্ত্র নিয়ন্ত্রণকে সাংবিধানিক অধিকারে হস্তক্ষেপ বলে দেখ থাকেন।

বৃহস্পতিবার বাইডেন নতুন নির্বাহী আদেশ জারি করার কয়েক ঘণ্টা পরই টেক্সাসের একটি দোকানে চালানো বন্দুক হামলায় একজন নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছে। সন্দেহভাজন হামলাকারীকে আটকের সময় রাজ্যের একজন সেনা সদস্যও গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। এর আগে বুধবার দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় এক হামলায় দুই শিশুসহ পাঁচ জন নিহত হয়। এছাড়া মার্চে দুইটি বড় আকারের হামলায় নিহত হয় মোট ১৮ জন।

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজের রোজ গার্ডেনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, বন্দুকের কারণে এই দেশে প্রতিদিন গড়ে ১০৬ জন নিহত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ঈশ্বরের দোহাই, এটা মহামারি। আর এটা থামাতে হবে।’

বাইডেনের নতুন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ‘ঘোস্ট গান’ নিয়ন্ত্রণের উপায় হিসেবে ৩০ দিনের মধ্যে নতুন নিয়মের প্রস্তাব দেবে বিচার বিভাগ। এসব অস্ত্র যে কেউ জোড়া লাগিয়ে ফেলতে পারে। ফলে এগুলোর কোনও সিরিয়াল নাম্বার থাকে না আর শনাক্তও করা যায় না। অস্ত্র জোড়া লাগানোর সামগ্রী কিনতে হলেও কোনও ব্যাকগ্রাউন্ড চেকও প্রয়োজন পড়ে না। বাইডেন বলেন, ‘অপরাধী থেকে শুরু করে সন্ত্রাসী পর্যন্ত যে কেউ এই কিট কিনতে পারে, আর ৩০ মিনিটের মথ্যে সবকিছু জোড়া লাগিয়ে একটা অস্ত্র বানিয়ে নিতে পারে।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধগুলোতে ক্রমবর্ধমান হারে বাড়িতে তৈরি অস্ত্র ব্যবহার হচ্ছে। দেশটির কেন্দ্রীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী লস অ্যাঞ্জেলস থেকে জব্দ করা অস্ত্রের ৪০ শতাংশের বেশি ‘ঘোস্ট গান’।