অর্থ আত্মসাত:সরানো হলো পরিদর্শক সোহেলকে

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  07:37 PM, 05 September 2021
ফাইল ছবি

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের কথিত পৃষ্ঠপোষক বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানাকে সরিয়ে নতুন কর্মকর্তাকে পদায়ন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। তাঁর বিরুদ্ধে গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছৈ।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগের মধ্যে দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে নেপাল সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক আটক হন বনানীর ইন্সপেক্টর সোহেল রানা। এ অবস্থার মধ্যে তার স্থলে নতুন কর্মকর্তা হিসেবে উত্তরা পূর্ব থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর গাজীকে বদলি করা হয়েছে।

রবিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ২১ ইন্সপেক্টর (পুলিশ পরিদর্শক নিরস্ত্র) পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়। তাদের মধ্যে সোহেল রানাকে সরিয়ে উত্তরা পূর্ব থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর গাজীকে একই পদে বনানী থানায় বদলী করা হয়। এই আদেশ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।

 

রবিবার বিকেলে যোগাযোগ করা হলে ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, বনানী থানার ওসি তদন্ত সোহেল রানার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পাশাপাশি যেহেতু তিনি ভারতে বিএসএফ কর্তৃক আটক রয়েছেন, সেখানেও তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এজন্য তাকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তার স্থলে নতুন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পুলিশ রিপোর্টের অপেক্ষা করছি। রিপোর্ট পেলেই তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এর আগে দুপুরে তিনি বলেন, গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের দায়ে অভিযুক্ত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের কথিত পৃষ্ঠপোষক বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

তখন তিনি বলেন, যেহেতু ভারতে মামলা হয়েছে এ কারণে তাকে ফিরিয়ে আনা যাবে কি না সেটি নিশ্চিত না। তবে ফিরিয়ে আনার রাস্তা রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিএসএফকে চিঠি দিয়ে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এটি অনেক সময় করা হয়। আমরা চেষ্টা করছি ফিরিয়ে আনার জন্য। যদি এ মাধ্যমে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হয় তাহলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তাকে ফেরত আনার চেষ্টা করবে।

ডিএমপি কমিশনার আরো বলেন, তার (পরিদর্শক সোহেল রানা) ব্যাপারে গুলশান বিভাগ পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে রিপোর্ট পেলে শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় একটি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) কোচবিহার জেলার চ্যাংরাবান্ধা সীমান্ত থেকে সোহেল রানা নামে এক বাংলাদেশিকে আটক করেছে বিএসএফ। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন তিনি।

বিএসএফের হাতে আটক সোহেল রানা গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎকারী বহুল আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের পৃষ্ঠপোষক। তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে কর্মরত ছিলেন। বনানী থানার এই পুলিশ পরিদর্শকের বোন ও ভগ্নিপতি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘ই-অরেঞ্জ’ পরিচালনা করতেন।

 

আপনার মতামত লিখুন :