অভয়নগরে বেড়েছে ডেঙ্গু রোগী:ইউনিয়ন পর্যায়ে মশক নিধণের উদ্যোগ নেই

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  07:54 PM, 24 August 2021

জেমস রহিম রানা,স্টাফ রিপোর্টার:যশোরের অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন জুলাই ও আগস্টে। এসব ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে শিশু থেকে বৃদ্ধরাও রয়েছেন।

হাসপাতাল সূত্রমতে, জুলাই ও আগস্ট মাসে এখানে ১৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন।

এদিকে অভয়নগরের নওয়াপাড়া পৌর এলাকায় মশক নিধন কর্মসূচি চলমান রাখা হলেও ইউনিয়ন পর্যায়ে নেই কোন উদ্যোগ।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একাধিক সূত্র জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ৪জন, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে ১জন করে ২জন, এপ্রিল, মে ও জুন মাসে ১জন করে ৩জন, জুলাই মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৭ এবং চলতি আগস্ট মাসের ২৩ তারিখ পর্যন্ত ভর্তি করা হয়েছে ৮ জনকে। চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ২৪ জন ডেঙ্গু রোগী। তবে জুলাই ও আগস্ট মাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল অনেক বেশি। এখন পর্যন্ত চিকিৎসাধীন আছেন একজন। বাকি রোগীদের সবাই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে হতাশার মধ্যেও সুখবর হলো এখানে মৃত্যুর হার শূন্য।

নওয়াপাড়া পৌর মেয়র সুশান্ত কুমার দাস শান্ত জানান, মশক নিধনকল্পে নওয়াপাড়া পৌরসভা কাজ করে যাচ্ছে। জনসচেতনতার পাশাপাশি চলতি আগস্ট মাসের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে মশক নিধন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পৌরবাসীর সেবায় পৌরসভা সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে।
বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, এবছর কোন ইউনিয়নে মশক নিধন কার্যক্রম করা হয়নি। যেকারণে মশার কামড়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা গ্রামাঞ্চলে বেশি। ইউপি চেয়ারম্যানদের পক্ষ থেকে মশক নিধণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

উপজেলার শ্রীধরপুর ইউনিয়নের শংকরপাশা গ্রামবাসীর অভিযোগ, পৌর এলাকায় মশক নিধনে বিষ স্প্রে চলমান রাখা হলেও ইউনিয়ন পর্যায়ে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। যেকারণে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নের আমতলা বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, গ্রাম হবে শহর, এই পরিকল্পনায় এগিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাহলে গ্রামের মানুষ সরকারিভাবে মশক নিধন কার্যক্রমের আওতায় আসছে না কেন তা বোধগম্য না।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুর রহমান গণমাধ্যমকে মুঠোফোনে জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ে মশক নিধনের বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যানদের পক্ষ থেকে কোন প্রস্তাব এখনও আসেনি। দ্রুত সময়ের মধ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ে মশক নিধনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এস এম মাহমুদুর রহমান রিজভী জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজন সচেতনতা। নিজ বাড়ির চারিপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং জমে থাকা পানি অপসারণ নিয়মিত করতে পারলে ডেঙ্গু মশার উপদ্রব বাড়তে পারে না। এরপরও যদি তীব্র জ্বরের সঙ্গে শরীরের প্রচন্ড ব্যাথা, ১০৫ ফারেনহাইট পর্যন্ত জ্বর, পেটে ব্যাথা, শরীরের বিশেষ হাড়, কোমড়, পিঠসহ অস্থি সন্ধি এবং মাংসপেশীতে তীব্র ব্যাথা, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়াসহ বিভিন্ন সমস্যা অনুভব হয় তাহলে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় ডা. এস এম মাহমুদুর রহমান রিজভী নিজে কাজ করে যাচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, সকলের সহযোগিতা দরকার।

খুলনা বিভাগ

আপনার মতামত লিখুন :