অবশেষে এফআর ভবনের মালিক ফারুক ও তাসভির গ্রেফতার

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  05:52 AM, 31 March 2019

>>>দুই মুলহোতাকে আটকের পর বাকি রইল ২০
সমর ভৌমিক,ঢাকা: রাজধানীর বনানীতে এফ আর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জমির মালিক এসএমএইচ আই ফারুক (৬৫) ও ভবনের বর্ধিত অংশের মালিক বিএনপি নেতা তাসভির উল ইসলামকে গ্রেফতার করতে পেরেছে ডিবি পুলিশ। শনিবার (৩০ মার্চ) রাত ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে তাসভিরের বারিধারার বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। অন্যদিকে রাত ১টার পর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে গ্রেফতার হয় জমির মালিক ফারুককে। এনিয়ে ভবনটির ২৪ জন মালিকের মধ্যে ২ জনেকে গ্রেফতার করা হলো। পড়ুন>>>>বনানীর অগ্নিকান্ডে নিহতদের স্মরণে এবিসি গ্রুপের শোক সভা ও ভবন মালিকদের গ্রেফতার দাবি

তাসভিরের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিবি (উত্তর) পুলিশের এডিসি সাজাহান সাজু এবং এডিসি গোলাম সাকলাইন সিথিল ফারুকের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পড়ুন>>>বেশি কথা না বলে টাওয়ার মালিককে গ্রেফতার করুন-১৪ দলের মুখপাত্র নাসিম

ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের অন্যতম সংগঠন এবিসি অনলাইন এক্টিভিস্ট ইউনিটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ শুক্রবার রাতে সভা করে দ্রুত ভবন মালিকসহ রাজউকের সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতার দাবি ও দ্রুত শাস্তির দাবি জানায়। পড়ুন>>>বনানীতে আগুন লাগা এফআর টাওয়ার নির্মাণে নকশা মানা হয়নি-রাজউক চেয়ারম্যান

সর্বশেষ শনিবার ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতা সাবেক মন্ত্রী ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেন বেশি কথার দরকার নেই, দ্রুত টাওয়ার মালিকদের গ্রেফতার করতে হবে।

এরপরই প্রশাসন নড়েচেড়ে বসে। তবে এরআগে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শনিবার রাতে বনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মিল্টন দত্ত বাদী হয়ে ৪৩৬/৩০৪(ক)/৪২৭/১০৯ ধারায় মামলা (নম্বর ৩৭) করেন। এতে এসএমএইচ আই ফারুক, রুপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান ও তাসভির উল ইসলামকে আসামি করা হয়েছে। যদিও সরাসরি হত্যা মামলা করা হয়নি।

জানা যায়, তাসভির উল ইসলাম কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। পাশাপাশি তিনি কাশেম ড্রাইসেলস কোম্পানি লিমিডেট নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নির্বাহী কর্মকর্তা।

রাজউক সূত্র জানিয়েছে, ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভবনটির ভূমি মালিক ইঞ্জিনিয়ার ফারুক ও রূপায়ন গ্রুপ যৌথভাবে নকশা অনুমোদনের জন্য আবেদন করে। তখন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ১৮ তলা ভবন নির্মাণের জন্য নকশা অনুমোদন দেয়। পরে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর ভবনটিকে ২৩ তলা পর্যন্ত বর্ধিত করে নির্মাণ করা হয়। ডেভেলপার কোম্পানি ভবনটির ২০ ও ২১তম তলাটি জাতীয় পার্টির প্রয়াত সাবেক সংসদ সদস্য মাইদুল ইসলামের কাছে বিক্রি করে। মাইদুল ইসলামের কাছ থেকে ফ্লোর দুটি কিনে নেন কাশেম ড্রাইসেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিএনপি নেতা তাসভির উল ইসলাম। এরপর তিনি নকশা পরিবর্তন করে ছাদের ওপর আরও দুটি ফ্লোর নির্মাণ করেন।

শনিবার (৩০ মার্চ) দুপুরে তাসভির গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেন, ‘তার ফ্লোরগুলোর রাজউক অনুমোদিত বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। তিনি ফ্লোরগুলো রূপায়ন থেকে কিনেছেন। ভূমি মালিক আর ডেভেলপার কোম্পানির দ্বন্দ্বের কারণে এই ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। এজন্য তিনি দায়ী নন, দায়ী রাজউক।’

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে ২৩ তলা বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট আগুন নেভানো ও হতাহতদের উদ্ধারের কাজ করে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, রেড ক্রিসেন্টসহ ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষিত অনেক স্বেচ্ছাসেবী অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা চেষ্টার পর রাত ৭টায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জন মারা গেছেন।

হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন অনন্ত ৭৫ জন।

ঢাকা বিভাগ

আপনার মতামত লিখুন :