অবশেষে আ’লীগ ছাড়লেন মির্জা কাদের

16

এবিসি ডেস্ক:সম্প্রতি নানা মন্তব্য করে দেশে আলোচনা সৃষ্টি করা নোয়াখালীর আলোচিত এক পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা এবার ফেসবুক লাইভে এসে আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন।

কাদের মির্জা বসুরহাটে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হোন। তিনি দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের আপন ছোট ভাই। এ কারণে পৌর নির্বাচনের সময় তার করা একটি মন্তব্য দেশে ব্যাপক শোরগোল সৃষ্টি করে।

কাদের মির্জা বুধবার পৌনে ১২টার দিকে ফেসবুক লাইভে এসে পদত্যাগের ঘোষণা দেয়ার পর নতুন করে আবার আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে।

তিনি বলেছেন, আমি প্রশ্নবিদ্ধ আর হতে চাই না। আমি আওয়ামী লীগে আজ থেকে আর নেই। কোনো শক্তি আর আমাকে আওয়ামী লীগের মির্জা আর বানাতে পারবে না।

ফেসবুক লাইভে তিনি বলছেন, আমি সব অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কথা বলে এখন সবার কাছে খারাপ হয়ে গেছি। যে দলে সম্মান নাই সেখানে আমি থাকবো না। আমি বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদের সদস্য হয়েছি সেখানে থেকেই কাজ করবো।

আবদুল কাদের মির্জা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নেই তিনি বসুরহাট পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

তবে বুধবার ফেসবুকে দেয়া ঘোষণায় তিনি লিখেছেন, আমি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করলাম:

১. ভবিষ্যতে কোনো রকম কোনো জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো না।

২. ভবিষ্যতে আমি কোনো রকম কোনো দলীয় পদ-পদবির দায়িত্ব নেবো না।

কেনো তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন, এই বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমকে বলছেন, প্রশাসনের জুলুম, সরকারি জুলুম আমার বিরুদ্ধে চলছে, এগুলোর কেউ বিচার করছে না। আমার বিরুদ্ধে, আমার ছেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হচ্ছে। কোন বিচার পাই না। আমাদের মামলা থানা নেয় না, তাদের মামলা নিয়ে আমাদের লোকজনকে হয়রানি করতেছে।

৯ই মার্চ বসুরহাটে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত আর বহু আহত হওয়ার পর ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। সেই ঘটনায় কয়েকটি মামলায় অন্তত ২৮জনকে আটক করা হয়।

আওয়ামী লীগ সরকারে থাকার পরেও কেনো তার এসব অভিযোগ, এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি আওয়ামী লীগে নেই। আমি তো বিরোধী দলের থেকেও খারাপ। আমি মওদুদ সাহেবের প্রোগ্রাম কেনো করলাম? এখন আমার বিরুদ্ধে সবাই লাগছে। ভিডিও—

তিনি আরো বলেন, আমি ভোট ডাকাতির বিরুদ্ধে কথা বলতেছি, আমি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলতেছি, তাই সবাই আমার বিরুদ্ধে লাগছে।