অনাহারীদের ঘরে খাদ্যপন্য পৌঁছে দিচ্ছেন গাজীপুরের মেয়র

25

Last Updated on

গাজীপুরের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম। দিনের আলোয় কিংবা রাতের আঁধারে। অনাহারীর মুখে খাবার তুলে দিতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে দিশেহারা জনগোষ্ঠীর পাশে থাকছেন মানবিক মেয়র। খোঁজ করে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছেন খাদ্যপণ্য। মেয়রকে এই দুঃসময়ে পাশে পেয়ে নাগরিকরাও আছেন স্বস্তিতে।৫৭টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত দেশের সর্ববৃহৎ সিটি কর্পোরেশন এটি। জনসংখ্যার ঘনত্বও অনেক বেশি। সিটিতে রয়েছে কয়েক হাজার পোশাক কারখানা। জনসংখ্যা রয়েছে ৪২ থেকে ৪৫ লক্ষ।

এদিকে বসে নেই সিটি মেয়র এ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম। করোনা সংকটের প্রথম দিন থেকেই প্রতিটি ওয়ার্ডের গৃহবন্দী কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন সিটি মেয়র অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম।

দিন রাত নিত্যপণ্য সাথে নিয়ে ঘুরে বেরিয়েছেন প্রতিটি ওয়ার্ডের অলিগলিতে। খাদ্যাভাবে কেউ যেন অনাহারী না থাকে সেদিকে দৃষ্টি রেখেছেন। প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিটি করে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে খাদ্যপণ্য বণ্টনের নির্দেশনাও দিয়েছেন।

সরকারি সহায়তার পাশাপাশি নিজস্ব তহবিল থেকে নগরীতে অবস্থানরত ভোটার ও ভোটারবিহীন মানুষদেরও সহযোগিতা করছেন এই মেয়র। দিনের কাজ শেষে রাতে বেরিয়ে পড়ছেন অনাহারী মানুষের খোঁজে। রাতের আঁধারে ভবঘুরে, নিম্নআয়ের মানুষের খোঁজ করছেন, দিচ্ছেন খাদ্যপণ্য।নগরীর ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের গার্মেন্টস শ্রমিক ওয়াহিদুর রহমান জানান, করোনার সময় বেতন পেতে দেরি হয়েছে। ঘরভাড়া, দোকান বাকি জমে গিয়েছিলো অনেক। বেতন পাওয়ার পর হাতে বাজারের জন্য টাকা ছিলো না। দুশ্চিন্তা মাথায় ভর করে বসেছিলো। পরিবারে মুখে খাবার তুলে দিতে কি করবো বুঝতে পারছিলাম না। এই দুশ্চিন্তার সময় মানবিক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম হাজির। সাথে এনেছেন খাদ্যপণ্যের প্যাকেট। কখনও সরকারি সহায়তা পাইনি। ভেবেছিলাম সরকারি সহায়তা তো আমাদের কপালে নেই। কিন্তু অবশেষে পরিবারের চলার জন্য খাদ্যের ব্যবস্থা হয়। পরবর্তী বেতন পাওয়া পর্যন্ত আমার পরিবার চলে মেয়রের দেয়া খাদ্য সহায়তায়।

নগরীর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের রিক্সাচালক জয়নব আলী জানালেন, ঈদের আগের দিন সারাবেলা রিক্সা নিয়ে এদিক সেদিক ঘুরছিলাম। যাত্রী পাচ্ছিলাম না। রিক্সার জমার টাকা, পরিবারের জন্য ঈদের সেমাই চিনি বা বাজার নিয়ে যাবো কি দিয়ে ভেবে পাচ্ছিলাম না। কষ্টে মনটা ছোট হয়ে আসছিল। কাল ঈদ, ঘরে রয়েছে দুটি সন্তান তাদের মুখে একটু সেমাই না তুলে দিতে পারলে সন্তানের প্রতি পিতার যে দায়ীত্ব তা কিভাবে এড়িয়ে যাবো! আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবছিলাম আমাদের গরীবের জন্য কেউ কি নেই? এমনটা ভাবতে আর রিক্সা নিয়ে ঘুরতে ঘুরতে রাত হয়ে গেল। পেলাম না কাঙ্খিত ভাড়া। একেকটি টাকাই যেন আমার কাছে সোনার হরিণ।

তিনি বলেন, রাস্তার পাশে রিক্সাটা দাঁড় করিয়ে বসে ভাবছি বাসায় কি নিয়ে ফিরব। সন্তান দুটি তো আমার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। বাড়ি গেলেই হাতের দিকে তাকিয়ে দেখবে ঈদের সেমাই এনেছি কি না। এমন সময় হঠাৎ গাড়ি থেকে কেউ একজন নেমে আসলেন। হাতে কি যেন একটি বস্তার মত। সামনে যখন এলেন, দেখলাম সে আর কেউ না। গাজীপুর সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর আলম ভাই। কুশল বিনিময় শেষে হাতে তুলে দেন ঈদ উপহার। আবেগে আপ্লুত হয়ে গেলাম আমি।

নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রার্থী আব্দুল লতিফ তালুকদার জানান, আমাদের মেয়র সার্বক্ষণিকভাবে আমাদের কাছে জানতে চান কেউ অনাহারী আছে কি না। এ ছাড়াও নিজে এলাকায় এসে জনগণের সাথে কথা বলেন। তাদের কাছে জানতে চান তারা কেমন আছেন, কোন সমস্যা আছে কি না। এ ছাড়াও মেয়র দিনে রাতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন পুরো গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকায়। কোন সময় কোন এলাকায় তিনি যাচ্ছেন, তা কেউ বলতে পারে না। কোন ওয়ার্ডে ঢোকার পর কিছু স্থানীয় জনগণের সাথে কথা বলার পর ফোন দেন স্থানীয় কাউন্সিলরকে। জানতে চান আপনার ওয়ার্ডের জনগণ কেমন আছেন। সবার খোঁজখবর নিতে পারছেন তো। আমরা এমন মানবিক মেয়র পেয়ে খুবই গর্বিত।

এ ছাড়াও, ৪৩, ৪৭, ৩১, ৫৭, ৫৫, ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডে বেশ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার সাথে কথা বললে তারা জানান, আমরা দুয়েকদিন পরপর মেয়রকে দেখতে পাই; যা কখনও ভাবতে পারিনি। হঠাৎ করে এসেই গাড়ি থামিয়ে জিজ্ঞেস করছেন, কেমন আছেন? কোন সমস্যা আছে কি-না? সমস্যা থাকলে স্থানীয় কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড সচিবদের ফোন দিয়ে সমস্যার সমাধান করছেন বলেও তারা জানান।

মেয়র জানান, জনগণের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে মেয়র হয়েছি। জনগন আমার প্রতি আস্থা রেখেই আমাকে ভোট দিয়েছেন। বিপদ আপদে যদি তাদের পাশে না দাঁড়াই তবে কি জনপ্রতিনিধি হলাম। জনগনকে বাইরে রেখে আমি কোনভাবেই ঘরে থাকতে পারি না। ইতিমধ্যে সিটিতে কয়েক’শ টন খাদ্যপণ্য বিতরন করেছি। এখনও বিতরণ ধারাবাহিকভাবে চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যের বিষয় বিবেচনা করে গাজীপুরে ইতিমধ্যে করোনা টেস্ট ল্যাব উদ্বোধন করা হয়েছে। ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সচিবদের দিয়ে ওয়ার্ড ভিক্তিক কমিটি করে দিয়েছি। তাদের কাজকর্ম পর্যবেক্ষন করতে আমি নিজে হঠাৎ করেই একেক ওয়ার্ডে যাচ্ছি। পরিবার থেকে দূরে আছি। কিন্তু গাজীপুর সিটিকর্পোরেশনের জনগণই এখন আমার পরিবার। তাদের সাথেই আমার সময় কাটছে বেশি। মানুষের জন্য কিছু করতে পারলে মনে অনেক শান্তি পাই। যতদিন বেঁচে আছি জনগণের জন্য কাজ করে যাব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মোতাবেক সার্বক্ষণিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি পরিস্থিতি হতে উত্তরণের। ইনশাআল্লাহ আল্লাহ চায় তো খুব শ্রীঘ্রই আমরা এ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রান পাবো।