অধ্যক্ষ মিন্টু বমর্ণকে শ্রেণিকক্ষেই ৬ টুকরো করে পুতে রেখেছিল সহকর্মী শিক্ষকরা

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  05:03 PM, 09 August 2021

এবিসি ডেস্ক:সাভারের আশুলিয়ায় স্কুলের মালিকানা বিরোধে শ্রেণিকক্ষেই অধ্যক্ষ মিন্টু চন্দ্র বর্মণকে (৩৬) হত্যার পর লাশ ছয় টুকরো করে দুই সহকর্মী। পরে পাঁচ টুকরো কলেজের আঙিনায় পুতে রেখে মাথার অংশ আশকোনার একটি ডোবায় ফেলে দেয় তারা। এ ঘটনায় তিন জনকে আটক করা হয়েছে।

আটকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অভিযান চালিয়ে আশুলিয়ার রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের আঙিনা থেকে লাশের পাঁচটি টুকরো উদ্ধার করে র‌্যাব। মাথা উদ্ধারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় আটকরা হলেন—মোতালেব, রবিউল ও তার ভাগিনা বাদশা।

র‍্যাব জানায়, করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভেতরে কোচিং করানো হতো। মিন্টু চন্দ্র বর্মণের কোচিংয়ে শিক্ষার্থী ছিল বেশি। এ নিয়ে অন্য সহকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। এছাড়া মালিকানা নিয়েও তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল।


র‍্যাব আরও জানায়, গত ৭ জুলাই শ্রেণিকক্ষে বসে মিন্টুকে হত্যার পরিকল্পনা করে অন্য সহকর্মীরা। ১৩ জুলাই কোচিং শেষ হওয়ার পর রাত ১১টার দিকে তাকে ১০৬ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে হত্যার পর লাশ ছয় টুকরো করে তারা। এর মধ্যে মাথার অংশটি আশকোনার একটি ডোবায় ফেলে দেয়। বাকি অংশগুলো ওই স্কুলের আঙিনায় পুতে রাখে। এরপর জায়গাটি সিমেন্ট-বালু দিয়ে ঢালাই করে দেওয়ার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল।

এদিকে খোঁজ না পেয়ে গত ২২ জুলাই আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন মিন্টুর ভাই দীপক চন্দ্র বর্মণ। এরপর থেকেই থানা পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাবও বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। পরে তার সহকর্মীসহ তিন জনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ স্কুলের আঙিনায় পুতে রাখা লাশের পাঁচটি টুকরো উদ্ধার করে র‍্যাব।

র‍্যাব -৪ এর কমান্ডার রাকিব মাহামুদ খান বলেন, ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে চলে যায় নিহত শিক্ষকের সহকর্মীরা। এর মধ্যে রবিউল তার লোকেশন বার বার পরিবর্তন করছিল। পরে রবিবার রাতে আব্দুল্লাপুর এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। এ ঘটনায় একটি মামলা করে আটকদের আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হবে।

ঢাকা বিভাগ

আপনার মতামত লিখুন :