অকালে টক কুলের চাষ:বদলে গেল রাসেলের ভাগ্য

34

>>দুই বিঘায় ৪লাখ লাভের প্রত্যাশা
কালীগঞ্জ(ঝিনাইদহ)প্রতিনিধি:কবিতায় আছে আম পাকে বৈশাখে, কুল পাকে ফাগুনে কিন্তু এখন ফাল্গুন মাস নয়, অগ্রহায়ন মাস থেকেই বাজারে পাওয়া যাচ্ছে আগাম ‘টক কুল’। আগাম জাতের এই টক কুল আবাদ করে লাভবান হয়েছেন শিক্ষিত যুবক ও কৃষি উদ্যোক্তা শেখ রাসেল আহম্মেদ। তার জমিতে উৎপাদিত হওয়া আগাম জাতের টক কুল যাচ্ছে ঢাকাসহ সারাদেশে।
গত নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই তিনি কুল বিক্রি শুরু করেছেন। নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাস মিলে তিনি প্রায় লাখ টাকার টক কুল বিক্রি করেছেন। সর্ব প্রথম তিনি ১৮০ টাকা দরে এই টক কুল ঢাকার যাত্রাবাড়ী বাজারে বিক্রি করেন। বর্তমানে তার কুল বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি দরে।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের মৃত শেখ আবুল কাশেমের ছেলে শেখ রাসেল আহম্মেদ দুই বিঘা জমিতে আগাম জাতের ‘টক কুল’ আবাদ করেছেন।
তিনি জানান, তরমুজ ও পেয়ারা বাগানের সাথে সাথী ফসল হিসেবে দুই বিঘা জমিতে ২শ টি আগাম জাতের টক কুল গাছ পরীক্ষামূলকভাবে লাগান। যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলার এক চাষীর কাছ থেকে ৬৫ টাকা দরে তিনি প্রতিটি চারা গাছ ক্রয় করেন।

প্রথমে পরীক্ষামূলক ভাবে তিনি তরমুজ ও পেয়ারা বাগানের মধ্যে গাছগুলো লাগান। তরমুজ বিক্রি করেছেন অনেক আগে। সেই সাথে বড় হয়ে গেছে পেয়ারা গাছও। আর তার মধ্যেই এখন নভেম্বর মাস থেকে টক কুল উঠে গেছে।

তিনি আরো জানান, এক বিঘা জমিতে কুলের চারা, সেচ, সার, কীটনাশক, পরিচর্যাসহ অন্যান্য খরচ হয় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। আর বিঘা প্রতি জমিতে কুল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার। অর্থাৎ দুই বিঘা জমিতে তিনি খরচ খরচা বাদে ৪ লাখ টাকার অধিক লাভ পাবেন বলে আশা করছেন।
বর্তমানে প্রতিদিনই তার জমি থেকে কুল তোলা হচ্ছে। প্রতিদিন তিন থেকে চার জন শ্রমিক তার কুল ক্ষেত থেকে কুল তুলে পরিমাপ ও প্যাকেটজাত করে ঢাকায় পাঠানোর কাজ করছেন। আর প্রতিটি কুল গাছ থেকে ১৫ থেকে ২০ কেজি করে কুল পাওয়া যাচ্ছে।

শেখ রাসেল আহম্মেদ আরো বলেন, আমাদের দেশে সাধারণত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে কুল পাওয়া যায়। আগামী ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত তিনি কুল বিক্রি করতে পারবেন। ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি যখন তার আগাম জাতের টককুল গাছ কেটে দিবেন তখন বাজারে মূলত কুল উঠা শুরু হবে। অথচ তিনি নভেম্বর মাস থেকে কুল বিক্রি শুরু করেছেন।
নভেম্বর মাসে যখন প্রথম ক্ষেতে কুল আসে তখন তিনি তা বিক্রির জন্য ঢাকার যাত্রাবাড়িতে ফোন করেন কুলের বাজার জানার জন্য। সেই সময় পাইকার ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে তো কুলই নেই, আপনাকে জানাবো কিভাবে? আগে কিছু কুল পাঠান পরে দর জানিয়ে দিব। সেই সময় তিনি সেখানে বেশ কিছু আগাম জাতের টককুল পাঠালে তারা কেজি প্রতি ১৮০ টাকা দর দিতে চায়।

প্রথমে তিনি ১৮০ টাকা এরপর এক ১৫০ টাকা সর্বশেষ তিনি ১২০ টাকা কেজি দরে আগাম জাতের টক কুল বিক্রি করছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকার কারওয়ান বাজার, ওয়াজঘাট ও যাত্রাবাড়ীতে কুল পাঠাচ্ছেন।

রাসেল জানান, সাধারণত ফেব্রুয়ারি মাসে বাজারে কুল ওঠে। কিন্তু তার ক্ষেতে নভেম্বর মাসে কুল উঠেছে এবং তিনি নভেম্বর মাস থেকেই কুল বিক্রি শুরু করেছেন। এছাড়া টককুলে রোগ বালাই কম, লাভও বেশি। বর্তমানে পাইকাররা তার ক্ষেতে এসে কুল নিয়ে যাচ্ছে। অনেক কৃষি উদ্যোক্তা ও চাষী আসছেন তার আগাম কুল দেখার জন্য। তিনি খুব শিগগিরই চারা বিক্রিও শুরু করবেন বলেও এই প্রতিবেদককে জানান।
ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম জানান, বাউকুলের তুলনায় টককুল আবাদে খরচ কম আবার চাহিদাও ভাল। আগাম এই কুল লাগিয়ে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। আমার জানামতে কালীগঞ্জে বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের শেখ রাসেল আহম্মেদসহ আরো ৪ জন আগাম জাতের টককুল আবাদ করেছেন। তারা দামও ভাল পাচ্ছেন। আমরা কৃষি বিভাগ থেকে তাদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে আসছি।