সাতক্ষীরায় নির্যাতনে প্রবাসীর স্ত্রীর মৃত্যু

299

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা ॥ যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনে শাহানারা খাতুন (২০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। নিহত গৃহবধূ সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানাধীন উত্তর শার্শা গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী আসাদুল গাজীর স্ত্রী ও পার্শ্ববতী এনায়েতপুর শানতলা গ্রামের জলিল সরদারের মেয়ে। এঘটনায় নিহতের শাশুড়িকে আটক করে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তার স্বামী মালয়েশিয়ায় থাকে।
এনায়েতপুর শানতলা গ্রামের হোসনে আরা খাতুন জানান, শাহানারা খাতুন তাদের ৭ ভাই বোনের মধ্যে সকলের ছোট। ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে তার সঙ্গে উত্তর শার্শা গ্রামের অমেদ গাজীর ছেলে আসাদুলের সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দেওয়া হয়। এছাড়া সোনার গওনাসহ পরবর্তীতে জমি বন্দক রাখার জন্য ৪০ হাজার টাকাও আসাদুলকে দেয়া হয়। শাহানারাকে দেয়া হয় একটি মোবাইল ফোন।
বিয়ের পরপরই বড় ভাই আজাহারুলের সঙ্গে আসাদুল মালয়েশিয়ায় চলে যায়। বিয়ের পর থেকে আসাদুলের পরিবারের সদস্যরা শাহানারাকে বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করতো। টাকা দিতে না পারলে তাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন চালানো হতো। বিষয়টি জানালে মোবাইলে আসাদুল তার স্ত্রী শাহানারাকে হুমকি দিতো। একপর্যায়ে শাহানারার মোবাইল ফোনটি নিয়ে নেয় তার শাশুড়ি চন্দনা বিবি।
হোসনে আরা আরো জানান, প্রতিবেশীদের মুখে খবর পেয়ে শনিবার রাত ১০ টার দিকে তারা শাহানারার শ্বশুর বাড়িতে যান। শাশুড়ি চন্দনা বিবি, বড় ননদের স্বামী চৌরাস্তার নূর হোসেন, চাচা শ্বশুর তাকে নির্যাতনের পর গলায় দড়ি দিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে দিয়ে দরজায় তালা লাগিয়ে পালিয়ে গেছে মর্মে এলাকাবাসী তাদেরকে জানায়।
একপর্যায়ে গ্রামবাসী দড়ি কেটে মুমুর্ষ শাহানারাকে রাতেই প্রথমে সদর হাসপাতাল সংলগ্ন হার্ড ফাউন্ডেশান ক্লিনিকে ভর্তি করে। সেখানের তার চিকিৎসায় উন্নতি না হওয়ায় পরিস্থিতি খারাপ দেখে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে খুলনার আড়াইশ বেড হাসপাতালে রেফার্ড করে। কিন্তু রুগীর খারাপ অবস্থা দেখে স্বজনরা সদর হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহানারাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ মাহাবুবর রহমান জানান, শাহানারার থুতনি ও গলাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়না তদন্ত ছাড়া মৃত্যুর কারণ বলা যাবে না।

পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল ইসলাম জানান, ঘটনা জানার পর লাশ থানায় এনে সুরতহাল সম্পন্ন করে মর্গে প্রেরণ করা হয়। ময়না তদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রিপোর্ট আসলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে ঘটনার পরপরই পুলিশ নিহতের শাশুড়িকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান।