সংসদে রাজাকার দেখতে চাই না-শাহরিয়ার কবির

383

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা ॥ একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির বলেছেন, ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা সংসদ পেয়েছি। এই সংসদে কোন রাজাকার দেখতে চাই না। আমরা রাজাকার মুক্ত সংসদ চাই। রোববার বিকেলে কালীগঞ্জ বাসটার্মিনালে ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি আয়োজিত ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অভিযাত্রা’ বিষয়ক এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করে না, যারা একাত্তরে গণহত্যা করেছিল, মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছিল সেই জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের সহযোগিদের নির্বাচনে দেখতে চাই না। আমরা পরিস্কারভাবে নির্বাচন কমিশনকে বলেছি আপনারা জামায়াতে ইসলামীকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করেছেন, দলীয় প্রতিক দাঁড়ি-পাল্লায় তারা নির্বাচন করতে পারবে না। জামায়াতের কোন ব্যক্তি স্বতন্ত্রভাবে কিংবা অন্য কোন দলের প্রতিক নিয়ে এই বাংলাদেশে নির্বাচন করুক তা আমরা দেখতে চাই না। তিনি বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করেন সেইসব রাজনৈতিক দল অবশ্যই নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবেন।
তিনি বিএনপির উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা জামায়াতে ইসলামীকে ছাড়–ন, নির্বাচনে আসুন। আপনাদের ভোট দিলে আপনারা জয়ী হবেন। কিন্তু তার আগে আপনাদের ঘোষণা দিতে হবে আপনারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশের কনসেপ্টকে বিশ্বাস করেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে সেটা আপনাদের মানতে হবে, যদি আপনারা বাংলাদেশে থাকতে চান।
তিনি বিএনপির উদ্দেশ্যে আরো বলেন, আপনার বলবেন বঙ্গবন্ধু নয় আর কেউ স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশে আপনারা রাজনীতি করবেন, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবেন কিন্তু পাকিস্তানীদের রাজনীতি আমরা বাংলাদেশে চলতে দিবো না।
তিনি নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্যে বলেন, জামায়াতে ইসলামীর কোন লোক স্বতন্ত্র ভাবে হোক বা অন্য কোন দল থেকে হোক বাংলাদেশে তারা নির্বাচন করতে পারবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত তারা জামায়াতে ইসলামীর সদস্য পদ পরিত্যাগ না করবে। তারা মওদুদীকে তাদের নেতা মেনে জামায়াতে ইসলামী করে। বাংলাদেশে তো মওদুদীবাদ চলবে না। তারা আমাদের কাফের বলে। বাংলাদেশে যারা মওদুদীবাদী, জামায়াতে ইসলামী, যাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই তারাই আমাদের কাফের বলে।
তিনি জনসভায় বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল জিয়াউর রহমানকে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রধান নায়ক উল্লেখ করে বলেন, জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার করতে হবে। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা ছাড়া পরিবারের সব সদস্যদের নৃশংসভাবে হত্যা করেছে পাকিস্তানপন্থীরা, যারা বাংলাদেশ চায় না। তারা জাতীয় ৪ নেতাকেও হত্যা করেছে।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান এবং তাদের সহযোগী জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানানোর জন্য বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। এবং জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করে দিয়ে হত্যাকারীদের পুরস্কৃত করেছেন। সংবিধান থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনা মুছে ফেলেছেন। ৭৫ এর পর থেকে দেখছি এই জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের সহযোগীরা বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানানোর জন্য কাজ করছে।তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আনন্দ মোহন ঘোষ হত্যা মামলার আসামীরা কিভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং ৩ বছরেও কেন মামলার চার্জশিট দেয়া হয়নি তা কেন্দ্রকে অবহিত করবেন বলে জনসভায় উল্লেখ করেন। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির কালীগঞ্জ শাখার আহবায়ক বীরমুক্তিযোদ্ধা ইসরাইল হোসেনের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি কাজী মুকুল, কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান, যশোর জেলা শাখার নেতা হারুনুর রশীদ, ঝিনাইদহ জেলা শাখার সভাপতি এ্যাড. লিয়াকত আলী, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ওহিদুজ্জমান অদু, ইরফান ম-ল প্রমুখ।