মণিরামপুরে মারপিটের শিকার স্কুল শিক্ষক এখন কম্পিউটার অপারেটর

218

মণিরামপুর সংবাদদাতা ॥ বিদ্যালয়ে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় দুই নারী সহকর্মী ও পিয়নের হাতে মারপিটের শিকার মণিরামপুরের শিক্ষক আবু শাহাদাৎ মারুফকে উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে ডেপুটেশন দেয়া হয়েছে। এদিকে ঘটনায় তদন্ত হলেও দেখেনি আলোর মুখ। এনিয়ে সর্বমহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সচেতন মহল বলছেন, ঘটনার সাথে জড়িতদের বিদ্যালয়ে বহাল তবিয়তে রেখে নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে একজন শিক্ষককে কম্পিউটার অপারেটর করার বিষয়টি অসম্মানজনক। তাকে এখন প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও রিসোর্স সেন্টার দুই অফিসই সামলাতে হচ্ছে।

জানাযায়, উপজেলার গৌরিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক আবদুল করিম ও দুই নারী সহকারী শিক্ষক মর্জিনা খাতুন ও রিজিয়া খাতুন এবং নৈশ প্রহরী নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান চালান। স্কুলে আগমন-প্রস্থানেরও তোয়াক্কাও করেন না তারা। স্কুলের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত সময়ের আগেই শুরু করাসহ প্রধান শিক্ষক স্কুলে এসেই কাজের দোহাই দিয়ে চলে যান। এ নিয়ে একই স্কুলের শিক্ষক মারুফ সংশ্লিষ্ট সহকারী শিক্ষা অফিসার হায়দার আলীকে অবহিত করেন। ঘটনার সত্যতা পেয়ে প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিমকে বকাঝকা করেন শিক্ষা কর্মকর্তা। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে মারুফকে সাইজ করতে ফন্দি আটেন তারা। এরজের ধরে গত ৮ আগস্ট প্রধান শিক্ষকের প্রত্যক্ষ মদদে পরিকল্পনামাফিক নৈশ প্রহরী ও দুই সহকারী নারী শিক্ষক আবু শাহাদাৎ মারুফ হাসানকে স্কুল ঘরের দরজা-জানালা বন্ধকরাসহ ঘরের সিলিং ফ্যান এবং পানি তোলা মটর অন করে মারপিট করে বলে অভিযোগ ওঠে। আওয়াজ বাইরে না যাওয়ার জন্য এমনটি করা হয় বলে অভিযোগে জানা যায়। এ ঘটনাটি জানাজানি হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে স্থানীয় অভিভাবকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। পুলিশ উপস্থিতিতে ওই দুই শিক্ষক স্কুলে আসে। গত ১২ আগস্ট সহকারী শিক্ষা অফিসার হায়দার আলী ও আনিচুর রহমান ঘটনার তদন্ত করেন। কিন্তু এক মাস পার হলেও আজও তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ না দেখায় এলাকাবাসির মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষক আবু শাহাদাৎ বলেন, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ তাকে এখানে নিয়ে এসেছেন। তার কস্ট হামলার সাথে জড়িতদের কিছু হলো না।
জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মনিরা খাতুন বলেন, তদন্তের দুইদিন পরই প্রতিবেদন জেলা শিক্ষা অফিসার মহোদয়ের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। কেন দেরি হচ্ছে তা স্যারই ভাল বলতে পারবেন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, তাকে নিরাপত্তার স্বার্থে সরিয়ে আনা হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহিদুল ইসলামের ব্যবহৃত মুঠোফোনে বারবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তাতে সাড়া মেলেনি।