মণিরামপুরে পুলিশের প্রহরায় চলছে জুয়ার বোর্ড !

266

মণিরামপুর সংবাদদাতা ॥ মণিরামপুরে পুলিশ প্রহরায় চলছে জুয়ার বোর্ড, অবাধে পার হচ্ছে চোরাচালান পণ্য এবং মাছের ঘেরে যাচ্ছে পোল্ট্রির বিষ্ঠা। আর এসব খাত থেকে মাসে কয়েক লাখ টাকা মাসোহারা পেয়ে তুষ্ট থাকার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এসব ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করেও প্রতিকার পায়নি ভুক্তভোগিরা। উল্টো পুলিশ তাদের হয়রানি করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
একটি সূত্র জানায়, চোরাচালান সিন্ডিকেট থেকে নেহালপুর ফাঁড়ি ইনচার্জ খাইরুল বাশার, জুয়ার বোর্ড থেকে রাজগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আকরাম হোসেন চৌধূরী এবং মাছের ঘেরের পোল্ট্রির বিষ্ঠা ব্যহারের সুযোগ দিয়ে ঘের মালিকদের কাছ থেকে রতন সাহা নামে থানার গাড়ি চালক অর্থ আদায় করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানাযায়, পুলিশ প্রহরায় উপজেলার হাজরাকাটি বেলতলার আবুল হাসান ও আব্দুল কুদ্দুসের নেতৃত্বে কপোতাক্ষ নদের পাড়ে (পুরাতন ঈদগাহ) পলিথিন ঘেরা টোং ঘরের মধ্যে বসছে নিয়মিত জুয়ার আসর। একই সাথে চলে মাদকের কারবার। জুয়ার আসরে প্রতিদিন অর্ধকোটি টাকার লেনদেন হয় বলে জানাগেছে। রাজগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলতাফ হোসেনকে সন্ধ্যার পর মাহমুদুর রহমান নামে এক ব্যক্তি অর্থ পৌঁছে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া নির্বিগ্নে জুয়ার বোর্ড চলতে একই এলাকার ইউসুফ আলী, মোজহার হোসেন, নাশকতার মামলার আসামি রবিউল ইসলাম, তরিকুল ইসলাম, মশিয়ার রহমান লিটনসহ অন্তত ২০ জন পাহারা দেয়। খেলতে আসা জুয়াড়ীদের টাকা ফুরিয়ে গেলে তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল বন্ধক রেখে নগদ টাকা দেয় আলমগীর হোসেন ও সোহাগ হোসেন নামের দুই যুবক। অবশ্য জুয়ার বোর্ড থেকে অর্থ নেয়ার কথা অস্বীকার করে এএসআই আলতাফ হোসেন বলেন, এ বিষয় জানতে চাইলে স্যারের (রাজগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আকরাম হোসেন চৌধূরী) সাথে কথা বলেন। জানতে চাইলে আকরাম হোসেন চৌধূরী আগে বসতো কিন্তু এখন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেন। কিন্তু স্থানীয়রা জানান, এখনো সেখানে বসছে জুয়ার আসর। ওই জুয়ার আসর থেকে পুলিশ মাসে ৬০ হাজার টাকা পকেটেস্থ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে শহিদুল ইসলামসহ একাধিক এলাকাবাসির অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেয়ার পর তদন্ত হলেও অদ্যবধি জুয়ার বোর্ড বন্ধ হয়নি।
মণিরামপুর বাজারের নৈশ প্রহরীর কমান্ডার মাহবুবুর রহমান জানান, রাত ১২টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে বস্তা ভর্তি ১০ থেকে ২৫টি পিকআপ-ট্রাকযোগে পোল্ট্রি বিষ্ঠা পৌরশহর পার হয়। বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করলেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সূত্র জানায়, যশোরের রাজারহাটের মিন্টু ও আওয়াল নামের দুই ব্যক্তির মাধ্যমে রাজারহাট পিকনিক কর্ণারের কাছ থেকে পোল্ট্রির বিষ্ঠা পিকআপ, ট্রাকে বস্তা ভর্তি করা হয়। যা মণিরামপুর ও কেশববপুর উপজেলার সুলতানের ও আসাদের মাছের ঘেরসহ বিভিন্ন জায়গায় নেয়া হয়। আক্কাস জানায়, তিনি কেবল পিকআপ ঠিক করে দেন, বিনিময়ে দুই থেকে তিনশ’ টাকা পান। মিন্টু জানান, পোল্ট্রির বিষ্ঠা নির্বিগ্নে পৌঁছে দেয়ার শর্তে নেহালপু ফাঁড়ি ইনচার্জ গাড়ি প্রতি ৫শ’ ও ওসির গাড়ি চালক রতন সাহার মাধ্যমে গাড়ি প্রতি ১ হাজার টাকা দেয়া হয়।
উপজেলার খর্দ্দোঘাট হয়ে অবৈধ ভারতীয় মালামাল ভর্তি পিকআপ, নছিমন, করিম বোঝাই করে প্রায় প্রতিদিন দুপুর দেড়টার দিকে সুন্দলপুর-নেহালপুর হয়ে নওয়াপাড়া ও খুলনায় চলে যায়। সন্ধ্যার পর একই রুট হয়ে পৌর এলাকার মোহনপুর বটতলা-নেহালপুর সড়ক হয়ে একই গন্তব্যে যায়। এছাড়া সকাল সাড়ে ৮ থেকে সাড়ে ৯টার দিকে পৌরশহরের দোলখোলা মোড় হয়ে ওই একই গন্তব্য যায়। এসময় প্রভাত কুন্ডু নামের এক ব্যক্তিকে নির্বিগ্নে এসব মালামল পৌঁছে দিতে অবৈধ মালামাল বোঝাই গাড়ির পিছনে দেখা যায় বলে নাম প্রকাশে অনৈচ্ছুক প্রত্যক্ষদর্শী অনেকে জানান। সূত্র জানায়, এসব অবৈধ ভারতীয় মালামালে মালিকদের কারো কাছ থেকে সপ্তাহ কিংবা মাসোহারা হিসেবে গড়ে মাসে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা আদায় করেন নেহালপুল ফাঁড়ির ইনচার্জ খাইরুল বাশার। এক প্রশ্নের জবাবে ফাঁড়ি ইনচার্জ খাইরুল বাশার অর্থ গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, কেউ প্রমাণ দিতে পারবে না। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোকাররম হোসেন বলেন, এসব বিষয় তিনি কিছুই জানেন না।