মণিরামপুরে কোটি টাকার ভারতীয় পণ্যসহ ৩ জনকে আটক করে ঘুষ বাণিজ্য

135

মণিরামপুর সংবাদদাতা ॥ যশোরের মণিরামপুরে কাভার্ডভ্যান ভর্তি অবৈধ মালামালসহ ৩ জন আটকের পর দেন-দরবারে ছেড়ে দেয়ার তথ্য বেরিয়ে আসছে। অবৈধ ভারতীয় মালামালসহ আটক কাভার্ডভ্যান চালক ছিলেন মণিরামপুর থানায় কর্মরত এক দারোগার আত্মীয় বলে একটি সূত্র জানায়। ওই চালক অবৈধ মালের সাথে থাকা মালিকপক্ষের মাধ্যমে ঘটনার দিন থানার মধ্যে দেন-দরবার করেন। কাভার্ড ভ্যানসহ ৩ জনকে আটকের সময় ও থানায় আনা পর্যন্ত প্রত্যক্ষদর্শী এবং গণমাধ্যম কর্মীদের চোখে ধুলো দিতে মাত্র ২ লাখ টাকার মালামালের সিজার লিষ্ট করা হয়। আর এই রফা-দফায় খুশি হয়ে গভীর রাতে থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয় প্রায় কোটি টাকার মালামালসহ কাভার্ডভ্যান এবং আটক চালক-হেলপার ও অবৈধ মালের সাথে থাকা লাইনম্যানকে।
সূত্রমতে, রফা-দফার প্রায় ৩০ লাখ টাকার মধ্যে থানার এক বড় কর্তার পকেটে সিংহভাগ ও ৩/৪ জন দারোগার পকেটে বাকী টাকা এবং অন্যান্যদের বঞ্চিত করায় তথ্য লুকোচুরির বিষয়টি ফাঁস হয়েছে। থানার ওসি আটক ব্যক্তিদের এবং গাড়ীসহ মালামাল সংশ্লি¬ষ্ট ঘটনায় কুরিয়ার সার্ভিসের ম্যানেজার (যশোর) হাবিবুর রহমানের দেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। থানার ওসি মোকাররম হোসেন ও অবৈধ ওই মালামাল আটকে অভিযানকারী থানার এসআই আবু সুফিয়ান ওই সময় জানিয়েছিলেন মূলত সিজারলিষ্ট হওয়া মালের মালিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গাড়ি এবং আটককৃতদের নামে মামলা হবে কেন ? তাদের দাবী ওই কাভার্ডভ্যানের মধ্যে অন্যান্য মালামালের বৈধ কাগজপত্র থাকায় গাড়িসহ আটকদের ছেড়ে দেয়া হয়। উলে¬খ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে মণিরামপুর সরকারি কলেজের সামনে থেকে ঢাকা মেট্রো-ট ১৬-১৬৩৩ নম্বরধারি জননী কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ড ভ্যান এবং তার চালক-হেলপার ও অপর এক ব্যক্তিকে থানার এসআই আবু সুফিয়ান ও এসআই আক্তারুল ইসলাম আটক করে থানায় নেন। ওই কাভার্ড ভ্যানের মধ্যে গাড়ির ও পানির পাস্পের যন্ত্রাংশ এবং মেডিকেল সামগ্রীসহ প্রায় কোটি টাকার অবৈধ মালামালসহ কাভার্ডভ্যানটি সাতক্ষীরা সিমান্ত থেকে ছেড়ে আসা মণিরামপুর হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। পরে গভীর রাতে কাভার্ডভ্যানের চালক, হেলপার ও লাইন ম্যানকে ছেড়ে দেয়া হয়।