বকশিসের নামে চাঁদাবাজি : বেনাপোলে আমদানী রফতানী বন্ধ

291

শার্শা সংবাদদাতা ॥ রোববারও পণ্য আমদানি রফতানি হয়নি বেনাপোল স্থলবন্দরে। ফলে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বেনাপোল বন্দরে। ভারতীয় ট্রাক চালকদের সাথে বন্দর ব্যবহারকারী কয়েকটি সংগঠনের সদস্যরা বকশিসের নামে অর্থ আদায়সহ নানাভাবে হয়রানীর প্রতিবাদে শনিবার দুপুর থেকে তারা আমদানি রফতানি বন্ধ করে দেয়। ৫ দফা দাবি আদায়ে কর্মবিরতি পালন করছে তারা। এরফলে ভারত থেকে পণ্য না আসায় বেনাপোল স্থলবন্দরে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
ভারতীয় ট্রাক শ্রমিক সংগঠন এবং মালিক সমিতি বেনাপোল বন্দর দিয়ে দু’দেশের মধ্যে আমদানী রপ্তানী বাণিজ্য বন্ধ রেখেছে। ফলে ৩ দফায় ৪দিন বন্ধের কবলে পড়ে বেনাপোলে অচলাবস্থার দেখা দিয়েছে। এরফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়িরা। ডেমারেজ গুনতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে। সরকার পাচ্ছে না রাজস্ব। তবে এসব বিষয় অস্বীকার করেছেন বেনাপোল সিএন্ডএফ ও কর্মচারী ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দসহ ট্যান্সপোর্ট মালিক সমিতির নেতারা। তাদের দাবী নিয়ম মেনেই দীর্ঘদিন যাবত তারা কাজ করে আসছেন। একটি মহল মিথ্যা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের পায়তারা চালাচ্ছে। বন্দর ও কাস্টম কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ি তারা পণ্য লোড আনলোডসহ খালাস প্রক্রিয়া করতে রাজি আছেন বলে জানান।
ভারতীয় ট্রাক শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলছেন, ভারত থেকে রফতানীকৃত পণ্য নিয়ে বেনাপোল বন্দরে আসার পর তাদের উপর শুরু হয় নানা হয়রানীসহ দুর্ব্যবহার। নিয়ম মাফিক বকশিসের টাকা দিলেও তারা অতিরিক্ত টাকা আদায়ের জন্য জটিলতা সৃষ্টি করে আসছে। এসব জটিলতা নিরসনে দু-দেশের বিভিন্ন সংগঠেনের সমন্বয়ে সম্প্রতি একটি আলোচনা সভা পেট্রাপোল বন্দরে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয় ট্রাক বিশেষ বকশিসের হার। কিন্তু বেনাপোল বন্দরের কতিপয় সংগঠনের সদস্যরা এসব সিদ্ধান্ত না মেনে তারা ইচ্ছা মাফিক বকশিষের টাকা আদায়ের ব্যাপারে অনড় থাকায় আমদানী-রপ্তানী বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছি।
এদিকে আমাদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় ভারতের পেট্রাপোলে বন্দরে আটকা পড়েছে শত শত পণ্য বোঝাই ট্রাক। যার অধিকাংশই রয়েছে বাংলাদেশের রফতানী মুখি গার্মেন্টস শিল্পের কাচামাল। এ ব্যাপারে বেনাপোল স্থল বন্দরের পরিচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, দু’দেশের শ্রমিকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে শনিবার থেকে আমদানী রফতানী বন্ধ রয়েছে। আলোচনা চলছে, খুব শিঘ্রই এ সমস্যার সমাধান হবে।