নড়াইলে বেশ্যার সাথে আইনজীবীদের তুলনা : আটক ৩

301

নড়াইল সংবাদদাতা ॥ ‘আল-আমিন নড়াইল’ (অষ-অসরহ ঘধৎধরষ) নামে ফেইসবুক আইডি থেকে আইনজীবীদের সম্পর্কে কটুক্তির অভিযোগ তথ্য-প্রযুক্তি আইনে ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে নড়াইলের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৩জনকে আটক করা হয়। এরা হলো নড়াইল শহরের ভওয়াখালীর সুলতান সিকদারের ছেলে বিপ্লব সিকদার, একই এলাকার মিসকাতুল ওয়াজিন লিটু ও মহিষখোলার সৈয়দ শওকতের ছেলে সৈয়দ জিল্লু।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, আল-আমিন তার ফেইসবুক আইডি থেকে নড়াইলের কয়েকজন আইনজীবী সম্পর্কে অশালীন ও মানহানিকর মন্তব্য করেন। তার ফেইসবুক আইডিতে আইনজীবীদের একটি নিষিদ্ধ পেশার মানুষের সঙ্গে তুলনা করা হয়। আল-আমিন ফেইসবুকে আইডিতে লিখেছেন-‘প্রচলিত একটা কথা আছে যে, উকিল আর বেশ্যার মধ্যে কোনো তফাৎ নেই, দুটোই টাকা পেলে কাজে লিপ্ত হয়।’ এধরণের মন্তব্য করায় গত ১৩ সেপ্টেম্বর নড়াইল জজ কোর্টের আইনজীবী কাজী বশিরুল হক বাদী হয়ে জেলার নড়াগাতি থানার গোবরাডাঙ্গার মুনছুর ফারাজির ছেলে আল-আমিনসহ বিপ্লব সিকদার, মিসকাতুল ওয়াজিন লিটু ও সৈয়দ জিল্লুর নামে সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তবে গত চারদিনেও মামলা নথিভুক্ত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন আইনজীবীরা। এ ব্যাপারে গত রোববার দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে জরুরি সভায় নিন্দা ও তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম নবীর সভাপতিত্বে জরুরি সভায় বক্তব্য রাখেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট পরিতোষ কুমার বাগচী, অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান জিন্নাহ, অ্যাডভোকেট হেমায়েত উল্লাহ হিরু, পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট এমদাদুল হক, সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিত বিশ্বাস, অ্যাডভোকেট উত্তম কুমার ঘোষ, অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক, অ্যাডভোকেট জাহিদুল আলম, অ্যাডভোকেট ওবায়দুর রহমান, অ্যাডভোকেট কাজী বশিরুল হক প্রমুখ। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, মামলা নথিভুক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা না নিলে পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। এদিকে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।