জন্ম থেকেই হাত-পা না থাকা লিতুন জিরা লেখে মুখ দিয়ে

305

মণিরামপুর সংবাদদাতা ॥ পরনির্ভর হয়ে সমাজের বোঝা হতে চাই না। লেখাপড়া শিখে সমাজের আর ১০ জন মানুষের মতো আত্মনির্ভশীল হতে চায় হাত-পা ছাড়াই জন্ম নেয়া লিতুন জিরা। সে মণিরামপুর উপজেলার শেখপাড়া খানপুর গ্রামের হাবিুবুর রহানের মেয়ে। বর্তমানে সে উপজেলার খানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ছে। মুখ দিয়ে লিখেই মেধার স্বাক্ষর রাখছে এই শিক্ষার্থী।
স্থানীয়রা জানান, লেখাপড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহী লিতুন জিরা প্রখর মেধাবী। প্রতিদিন হুইল চেয়ারে বিদ্যালয়ে যায়। বর্তমানে হুইল চেয়ারটি পুরাতন হয়ে যাওয়ায় তা চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে জানালো লিতুন জিরা। তার বাবা উপজেলার এআর মহিলা কলেজের প্রভাষক। তিনি গত ১৫ বছর ধরে ওই কলেজে চাকরি করলেও আজও কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়নি। তার বাবাই সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার উপর বেতন না হওয়ায় হুইল চেয়ার কেনার জন্য বাবাকে বলতে পারছে না লিতুন জিরা। বছর পাঁচেক আগে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হুইল চেয়ারটি দেয়া হয়। বর্তমানে আরেকটি নতুন চেয়ার তার খুব দরকার।
সরেজমিন লিতুন জিরার বাড়িতে যান এ প্রতিবেদক। দেখা যায় লিতুন জিরা আরো ৮/১০ জন শিশুর মতো স্বাভাবিকভাবেই খাওয়া-দাওয়া, গোছল সব কিছুই করছে। মুখ দিয়েই লিখে যাচ্ছে ঘন্টার পর ঘন্টা। তার চমৎকার হাতের লেখা যে কারো দৃষ্টি কাড়বে। এ সময় কথা হয় তার সাথে। লিতুনের একটাই ইচ্ছা, পরনির্ভর না হয়ে লেখাপড়া শিখে নিজেই কিছু করতে চাই। এজন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছে সে।
লিতুন জিরার বাবা হাবিবুর রহমান ও মা জাহানারা বেগম বলেন, জন্মের পর মেয়ের ভবিষ্যত নিয়ে নানা চিন্তা তাদের দিশেহারা করে তুলতো। এখন মেয়ের মেধা তাদের আশার সঞ্চার করছে।
লিতুন জিরার প্রধান শিক্ষক সাজেদা খাতুন বলেন, ‘২৯ বছর শিক্ষকতা জীবনে লিতুন জিরার মতো মেধাবী শিক্ষার্থীর দেখা পায়নি। এক কথায় সে অসম্ভব মেধাবী। শুধু লেখা-পড়ায় না, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডেও অন্যদের থেকে অনেক ভাল।’