চৌগাছায় হোটেল রেস্তোরায় পচাবাসি খাবার 

766

চৌগাছা সংবাদদাতা ॥ যশোরের চৌগাছার প্রতিটি হোটেল রেস্তোরায় ভেজাল খাদ্যে সয়লাব হয়ে গেছে। শুধু ভেজাল খাদ্য না, অসাধু ব্যবসায়ীরা পচাবাসি খাবার হরহামেশাই পরিবেশন করছে। এসব খাবার খেয়ে অনেকে হয়ে পড়ছেন অসুস্থ। সরকারিভাবে কোন তদারকি না থাকার কারণে ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছামত ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। দেশে আইন আছে কিন্তু প্রয়োগ নেই। যেকারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালার দাবি তাদের।
জানা গেছে, উপজেলাটির যেখানে সেখানে ব্যাঙের ছাতার মত যত্রতত্র গড়ে উঠেছে হোটেল রেস্তোরা। শুধু উপজেলা সদরেই এর সংখ্যা অর্ধশতের মত। এরমধ্যে বেকারী-কনফেকসনারী আছে ১৭টি আর মিষ্টি ও খাবারের হোটেল আছে ৩২টি। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ ফাষ্টফুড আছে প্রায় ১০টির মত। এসব ব্যবসায়ীরা প্রতিটি হোটেল রেস্তোরার সামনে বিশাল আকৃতির বাহারী সব নামের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে তাদের পরিচিতি জানান দিচ্ছেন। সম্মুখ ভাগে তাদের চাকচিক্য ভাব দেখা গেলেও ভিন্ন ভিতরের পরিবেশ। যেখানে খাবার প্রস্তুত করছেন সেখানকার পরিবেশ এতটাই নোংরা, যে কোন সচেতন মানুষ একবার দেখলে ওই হোটেল বা রেস্তোরাতে আর কখনও খাবার খেতে যাবেন না। শুধু তাই না, যেসব হোটেল রেস্তোরা তাদের বয়দের দিয়ে খাবার বিতরণ করেন, তারাও সারাক্ষণ অপরিস্কার পোশাকে থাকেন। শরীর থেকে ঘাম ঝরছে, সেই অবস্থায় বানানো হচ্ছে খাবার, ধুমাপন অবস্থায় তৈরী করা হচ্ছে খাবার। এ ধরণের অংসখ্য অনিয়ম প্রতিনিয়ত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেক হোটেল আছে, যারা পচাবাসি খাবার প্রকাশ্যে নির্বিঘেœ বিক্রি করছেন। যে সব ব্যক্তি এই খাবার খাচ্ছেন তারা হয়ে পড়ছেন অসুস্থ। মিষ্টির হোটেলে প্রতিটি খাবারে মিশানো হচ্ছে ভেজাল। রঙ দিয়ে তৈরী করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরণের মুখোরোচক খাবার, যা মানব দেহের জন্য ক্ষতিকার। অনুরুপ ভাবে বাজারের প্রতিটি খাবারের হোটেলে মানুষ কি খাচ্ছেন তা জানলে যেকোন ব্যক্তির শরীর শিউরে উঠবে। তাদের পরিবেশিত মাছ, মাংশ থেকে শুরু করে সব কিছুই স্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। সুচতুর এসব ব্যবসায়ীরা খাদ্যে ভেজাল মেশানো কার্যক্রম অত্যান্ত গোপনীয়তার সাথে সমাপ্ত করছেন। ভোক্তা সাধারণের চোখ ফাঁকি দিয়ে কী ভাবে ভেজাল মেশানো যায় সেদিকে বেশী নজর রাখছেন তারা। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলছে এসব কাজ। মাঝে মধ্যে স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের কারণে জনসেচতনা কিছুটা বাড়লেও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর টনক নড়ছে না বলে অভিযোগ সচতেন মহলের। এক সময় মাঝে মধ্যে ভেজাল বিরোধী অভিযান নাগরিকদের মনে স্বস্তি দিলেও সেই কার্যকারিতা দীর্ঘ দিন রয়েছে বন্ধ। ভেজাল খাদ্য গ্রহণের ফলে নানাবিধ দুরারোগ্য ব্যাধি ও জীবনহানির ঘটনা ঘটে। বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্য মতে, বাংলাদেশে প্রতি বছর ৪৫ লাখ লোক খাদ্য বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তারপর অধিক মুনাফার আশায় অসাধু ব্যবসায়ীরা নিয়মিত খাদ্যে ভেজাল পচাবাসি খাবার মানুষের মাঝে বিতরণ করছেন। এক তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিশুদ্ধ খাদ্য অধ্যাদেশ, ১৯৫৯ (সংশোধিত ২০০৫) এ সর্বোচ্চ ১ বছর সশ্রম কারাদন্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডের বিধান রয়েছে। অপরদিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন আইন, ২০০৯ এ সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদন্ড বা অনাধিক ২ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডের বিধান রয়েছে। নতুন প্রণীত নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ তে কারাদন্ড অনুর্ধ্ব ৫ বছর বা অনাধিক ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান করা হয়েছে। একের পর এক আইন হচ্ছে কিন্তু তার যথেষ্ট প্রয়োগের অভাবে খাদ্যে ভেজাল বা পচাবাসি খাবার বিক্রি দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। হোটেল রেস্তোরা গুলোতে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতের লক্ষে অচিরেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।