চৌগাছায় পুলিশের নাশকতা মামলায় যুবদল নেতা গ্রেফতার

221

* গ্রেফতার এড়াতে বিএনপি-জামায়াতের অনেক নেতাকর্মী বাড়িঘর ছাড়া

চৌগাছা সাংবাদদাতা ॥ যশোরের চৌগাছায় মঙ্গলবার পুলিশের দায়ের করা নাশকতা মামলায় উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মান্নানকে আটক করেছে থানা পুলিশ। বুধবার দুপুরে চৌগাছা বাস মালিক সমিতির অফিসের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়। এবার বিএনপি-জামায়াত ও তাদের সহযোগী সংগঠনের ৪৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৪০/৪৫ জনকে আসামী করা হয়েছে। এদিকে যুব নেতা মান্নানের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানা পুলিশ। এদিন বিকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এদিকে গোটা উপজেলা জুড়ে বিএনপি জামায়াতের নেতাকর্মীদের মাঝে গ্রেফতার আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই বাড়িঘর পরিবার পরিজন ছেড়ে চলে গেছেন আত্মগোপনে। চরম এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে মানুষের মাঝে।
সূত্র জানায়, গত ১১ সেপ্টেম্বর থানা পুলিশ বাদী হয়ে আবারও একটি নাশকতা মামলা করে। মামলার একদিন যেতে না যেতেই আটক করা হয়েছে উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল মান্নানকে। থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আকিকুল ইসলাম বুধবার দুপুরে তাকে বাস মালিক সমিতির অফিসের সামনে থেকে আটক করেন। ওইদিন বিকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি যুবনেতা আব্দুল মান্নানকে আটক ও জেলা হাজতে প্রেরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অন্য আসামীরা হলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহুরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি এমএ সালাম, সাধারণ সম্পাদক ইউনুচ আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি সাবেক মেয়র সেলিম রেজা আওলিয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক কাউন্সিলর সাহিদুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিক, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মাও. আব্দুল কাদের, বিএনপি নেতা উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের মজনু মেম্বর, কুষ্টিয়া গ্রামের মজিবর রহমান, সঞ্চাডাঙ্গা গ্রামের মাস্টার শহিদুল ইসলাম, চাঁদপাড়া গ্রামের আব্দুস সালাম, পৌর এলাকার বিশ্বাসপাড়া মহল্লার হিরা বিশ্বাস, হাকিমপুর গ্রামের সাজ্জাদ হোসেন, যাত্রাপুর গ্রামের ফারুক হোসেন, তাহেরপুর গ্রামের আঃ মজিদ, পুড়াপাড়া বাজারের এসএম মিলন, নারায়নপুর গ্রামের ওহিদুল ইসলাম ভোদড়, সৈয়দপুর গ্রামের মাষ্টার আলাউদ্দিন, বাদেখাঁনপুর গ্রামের মজনুর রহমান মজনু, হাজরাখানা গ্রামের মিজানুর রহমান, হোগলডাঙ্গা গ্রামের আলী আহম্মদ, জগদীশপুর গ্রামের আব্দুল লতিফ লতা, আড়কান্দি গ্রামের মহিদুল ইসলাম, আড়পাড়া গ্রামের আঃ মমিন, ফতেপুর গ্রামের আব্দুল মেম্বর, আজমতপুর গ্রামের ভদু ও শামনুর রহমান, শাহাজাদপুর গ্রামের আব্দুল মালেক, খড়িঞ্চা গ্রামের আঃ মজিদ, শফি উদ্দিন ও মমিনুর রহমান মমিন, স্বরুপদাহ গ্রামের বাবু মেম্বর, খড়িঞ্চা নওদাপাড়ার আঃ ওহাব ঝন্টু, আন্দারকোটা গ্রামের মন্টু মিয়া, বহিলাপোতা গ্রামের শফিউদ্দিন, মাধবপুর গ্রামের ডাক্তার আমিনুর রহমান, তিলেকপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান, পাঁচনামনা গ্রামের মাওঃ আঃ খালেক, আড়কান্দি গ্রমের রওশন জামিল, পুড়াহুদা গ্রামের মিজানুর রহমান, স্বর্পরাজপুর গ্রামের আব্দুল্লাহ, চৌগাছার হালিম, গুয়াতলী মাঝেরপাড়ার সবুর উদ্দিন ও ফজর আলী ও বড়নিয়ামতপুর গ্রামের ডাক্তার নাসির উদ্দিন। উপজেলার অন্তত ৪০টি গ্রাম থেকে বিএনপি ও জামায়াতের উল্লেখিত ৪৬ জনের নামসহ মামলায় অজ্ঞাত ৪০/৪৫ জনকে আসামী করা হয়েছে।