কালিগঞ্জে চেয়ারম্যান হত্যা মামলার আসামীকে পিটিয়ে হত্যায় পুলিশের সহযোগীতা ! 

175

অজ্ঞাতনামা ৭ হাজার গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা ॥ জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া 
কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি ॥ কালিগঞ্জের ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হত্যা মামলার ১নং আসামী ইউনিয়ন শ্রমিকলীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল গাইনকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ৭ হাজার গ্রামবাসীর নামে মামলা দিয়েছে পুলিশ। থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ রাজিব হোসেন বাদি হয়ে শনিবার রাতেই থানায় এই মামলা দায়ের করেন। এদিকে পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনতাই করে পিটিয়ে হত্যা ও বাড়ি ভাংচুর করার ঘটনায় মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে বলে দাবী করেছে নিহতের পরিবার। সর্বশেষ রোববার দুপুরে নিহতের বড় মেয়ের নেতৃত্বে শতাধিক লোক থানা ও সার্কেল অফিসে এসে পুলিশকে সাধুবাদ জানানোর ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এদিকে ইউপি চেয়ারম্যানের পরিবার ও তার দলীয় নেতা কর্মীরা কৃষ্ণনগর বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করে ইউপি সদস্যের লাশ যাতে তার গ্রামে বাড়িতে দাফন না করা হয় সেজন্য হুশিয়ারি দেয়ায় দাফন নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে রোববার সকালে কৃষ্ণনগর বাজার ও শংকরপুর গ্রামে গেলে মমতাজ গাইন ও মোমেনা খাতুনসহ কয়েকজন জানান, চেয়ারম্যান কেএম মোশাররফ হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামী ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল গাইনকে আটক করার পর শনিবার রাত ৯টার দিকে অস্ত্র উদ্ধারের নামে কৃষ্ণনগর বাজারে পুলিশ ভ্যান থেকে নামানো হয়। এরপর জলিলকে ছিনিয়ে নেয়ার নামে যেভাবে পুলিশের সহায়তায় জনগণ নাগালে পায় তা আইনের পরিপন্থী। এরপর তাকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যার পর তার বাড়িঘর ভাংচুর করা হয়েছে। ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে তার পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপন করতে বাধ্য হয়েছে। তবে নিহত আব্দুল জলিলের মা মোমেনা খাতুন, স্ত্রী মুক্ত পারভিন, চাচা মন্তেজ গাইন জানান, যেভাবে জলিলকে পিটিয়ে মারা হয়েছে তা একটি কলঙ্কের দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। বাড়ির সামনের দরজা, চারটি এসি ঘরের গ্যাস, ১৪টি সোলার প্যানেলসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাংচুরের দৃশ্য দেখিয়ে তারা বলেন, দেশে আইনের শাসন থাকলে এটা হতো বলে তারা মনে করেন না। জলিল হত্যার ঘটনায় তারা ক্ষুব্ধ জনগণের চেয়ে পুলিশকেই বেশি দায়ী করেন। নতুন করে হামলার ভয়ে জলিলের লাশ তারা হাসপাতালে আনতে যাননি বলে জানান তারা। তবে কৃষ্ণনগর গ্রামের কয়েকজন জানান, জলিল যেভাবে ডাকাতি, হত্যা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের মাধ্যমে বিশাল সম্পদের মালিক হয়েছেন, তা নজিরবিহীন। তারই ক্ষোভ স্বরুপ তার আলীশান বাড়ি ভাংচুর করেছে জনতা। রোববার বিকেলে কিষান মজদুর হাইস্কুল মাঠে বসেছে শান্তিসভা। জনগণ যেভাবে জলিলকে পিটিয়ে মেরেছে তাতে অন্য ডাকাত সন্ত্রাসীরা সতর্ক হবে। এ ব্যাপারে কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসান হাফিজুর রহমান জানান, পুলিশের কাছ থেকে জলিলকে ছিনিয়ে নেয়ার সময় ধস্তাধ্বস্তির একপর্যায়ে ৬ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ রাজিব হোসেন বাদী হয়ে শনিবার রাতে ৭ হাজার অজ্ঞাতনামা গ্রামবাসীর নামে মামলা দায়ের করেছে। রোববার বিকেলে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে লাশের ময়না তদন্ত শেষে তার স্বজনদের হাতে তুলে দেয়া হবে। স্বজনরা কেউ লাশ না নিলে সরকারিভাবে দাফন করা হবে। প্রসঙ্গত: গত ১০ সেপ্টেম্বর রাতে জাপা নেতা কৃষ্ণনগর ইউপি চেয়ারম্যান কেএম মোশাররফ হোসেনকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার ঘটনায় তার বড় মেয়ে সাদিয়া পারভিন ১৯ জনসহ অজ্ঞাতনামা ২০ জনের নামে থানায় মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ৮জন আসামীর মধ্যে ৩জন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। গ্রেফতারকৃত জলিলকে গ্রামবাসী পিটিয়ে হত্যা করেছে।