আর গৃহপালিত বিরোধী দল নয়: এরশাদ

232

‘গৃহপালিত বিরোধী দলের’ ভূমিকায় না থেকে আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় যেতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জাতীয় পার্টির শনিবারের যৌথসভার স্থল পরিদর্শনে এসে শুক্রবার বিকালে একথা বলেন তিনি।

এরশাদ বলেন, তার নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে সরকার গঠন করতে ‘শক্তি সঞ্চয়’ করেছে।

“এবার আর গৃহপালিত বিরোধী দল হয়ে নয়। আমরা ক্ষমতায় যেতে চাই। আমি জীবনে দুই নম্বর সিটে বসি নাই। পার্টির জন্য এখন বিরোধী দলে। কিন্তু জাতীয় পার্টি এখন চলে আমার কথায়। পার্টি কাউন্সিল মিটিং করবে, তা পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে আমাকে।”

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ গত বৃহস্পতিবার ঘোষণা দিয়েছেন, তার জীবনের ‘শেষ নির্বাচনে’ তিনি ঢাকা-১৭ আসনটিতে প্রার্থী হবেন।

বিএনপিবিহীন দশম সংসদ নির্বাচনেও এই আসনে প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন সাবেক সামরিক শাসক এরশাদ। কিন্তু নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন তিনি।

মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদনের পর নাটকীয় অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এরশাদ। পরে ঢাকা-১৭ আসনে তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার হলেও রংপুরে পৈত্রিক এলাকায় তার মনোনয়নপত্র বহাল রাখেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। ওই আসন থেকে এরশাদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর এখন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের দায়িত্বেও রয়েছেন।
তার স্ত্রী রওশন এরশাদ এখন জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেতা। সেই সঙ্গে তার দলের একজন মন্ত্রী ও দুইজন প্রতিমন্ত্রী রয়েছে সরকারে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকাসহ সারা দেশে গণসংযোগ শুরুর ঘোষণা দিয়ে এরশাদ ইতোমধ্যে বলেছেন, বিএনপি এবার নির্বাচনে না এলে তার দল এককভাবে নির্বাচন করবে, জাতীয় পার্টি ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেবে।

যৌথ সভার আগে দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সমালোচনায় মুখর এরশাদ দলের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমি হাওলাদারকে দেখিয়ে বলেন, “আজ এই যে আমরা সবাই লাল চেয়ারে বসে আছি, এই চেয়ারে বসতে চায় সবাই। এ চেয়ার খারাপ হলে সবাই সমালোচনা করে।

“অথচ পার্টির নেতারা এখন এক পয়সা সাহায্য করছে না। প্রেসিডিয়াম সদস্যরা পাঁচ হাজার টাকা দেয়। পাঁচ হাজার টাকা তো ভিক্ষুকেও নেয় না। দেওয়ার জন্য আছি আমরা দুজন (হাওলাদারকে দেখিয়ে)…. আর আছে আমার কর্মীরা।

পার্টির নেতাদের এমন আচরণে অসন্তোষ জানিয়ে এরশাদ বলেন, “কথা হল, দল চালাতে পয়সা লাগে। পয়সা তো নাই। ওরা এমপি হতে এসেছেন বিনে পয়সায়। পরিশ্রম করব আমি আর উনি (হাওলাদার), আর ওনি এমপি হবেন…।”

দলের নেতাকর্মীদের তার নেতৃত্বে একতাবদ্ধ হয়ে ভোটের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, এস এম ফয়সাল চিশতী, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া ও ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম নুরু এসময় উপস্থিত ছিলেন।